মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

শরীয়তপুর বার্তা
১৯

প্রণোদনায় বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৯  

বৈধ পথে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে সরকারের দুই শতাংশ প্রণোদনার সুফল আসতে শুরু করেছে। প্রতি মাসেই বাড়ছে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪৫১ কোটি ৪ লাখ (৪.৫১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ (৩.৮৬ বিলিয়ন) ডলার। আর চলতি মাসের ১৮ দিনেই এসেছে ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের বছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অতীতের যে কোনো বছরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক বছরে এই পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স। রফতানি আয় কিছুটা কমলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে ব্যাংকিং চ্যানেল বহির্ভূত অবৈধভাবে মোবাইল ব্যাংকিং বা হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পরে প্রবাসী আয়ে। তাই মোবাইলে হুন্ডি বন্ধ ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেয় সরকার। যার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিন দিন বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রবাসী আয়ের এ পরিমাণ অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি।

আর বছর হিসেবে ২০১৮ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৫৫৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০৪ কোটি ডলার বা প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার। এর চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে চলতি মাসের ১৮ দিনেই এসেছে ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।

ঈদকে সামনে রেখে চলতি বছরের মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা একক মাস হিসেবে এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ।

রেমিট্যান্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। এ সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়ায় চলতি অর্থবছরে ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আহরণ করে ভারত। যার পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। দেশটি বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করে। অথচ আমরা বছরে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করি। রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের আরো নজর দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্সের যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে এবার ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি আপনারা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়াতে পারবেন। আর রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে যেভাবে সহযোগিতা দরকার তা সরকার দেবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। যার ফলে গত ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণাদনা পাচ্ছেন। আর এ জন্য নতুন বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর