• মঙ্গলবার   ০৭ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৭

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪১

শরীয়তপুর বার্তা
৩৮৭

ভেদরগঞ্জে খাদ্য চাহিদা পুরণের লক্ষে আউশধান ও সবজিবীজ বিতরণ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২০  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সারা দিয়ে প্রতিটা জমিকে চাষ যোগ্য করে ফসল ও সবজি আবাদের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষে কৃষকদের মাঝে বীজ- সার  বিতরণ করেছে ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস। আজ ৪ মে সোমবার বেলা ১১ টায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠ  থেকে নিরাপদ শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলার ২৫০ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে আউশধান বীজ ও ৩০ কেজি সারসহ বিভিন্ন সবজি বীজ দেয়া হয়।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রতন কুমার ঘোষ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা একেএম মহিউদ্দিন। এসময় বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার  ফাতেমা ইসলাম বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি ব্যবহারের লক্ষ্যে উপজেলার ২৫০ জন কৃষকের মাঝে বীজ বিতরণের লক্ষে এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগে কর্মকর্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ধুন্দল, মিষ্টি কুমড়ো, চাল কুমড়ো, পুইশাক, ডাটা শাকের বীজসহ গ্রীষ্ম কালিন বিভিন্ন বীজ আনুষ্ঠানিক বিতরণের পরে নিয়ে স্ব স্ব ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন তারা তাদের এলাকায় কৃষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বীজ ও সার পৌছে দিয়ে আসবে।
তিনি আরো জানান এর ফলে প্রতিটি বাড়ি হয়ে উঠবে এক একটি সবজির আধার ফলে এক দিকে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে পুষ্টি খাটতি মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের করোনা ভাইরাস মানুষের জন্যে আতংক তেমনি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের উদ্যোগটি সময উপযোগি।

উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নে মহিষকান্দি গ্রামের কৃষক বাবুল দালাল বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের এ কার্যক্রমের ফলে দেশে খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। শিলা বৃষ্টিতে পাট, মরিচ, ভুট্টায় যে লোকশানে পরেছিলাম। সরকারের বিনামূল্য আউশবীজ ও সার আমাদের ঘুরে দাড়াতে সহায়তা করবে।

এই সবজি বীজ বাড়ি বাড়ি পৌছে দেয়া সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা একেএম মহিউদ্দিন বলেন, এই কর্মকাণ্ড হয়ত বড় কিছু না তবে করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকের জন্য বড় ধরনের কাজ হবে। টাকা দিয়ে সব হয়না। অল্প হলে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের পারিবারিক সবজি উৎপাদন হবে। আর এ এলাকায় শিলা বৃষ্টিতে পাট, মরিচ, তিল, কালোজিরা, ভুট্টার যে ক্ষতি হয়েছে। তাদের আউশ ধান চাষের ফলে আর কোন জমি পরিত্যাক্ত থাকবেনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন তাদের জীবনের ঝুঁকির নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হবে। আমাদের আগামী দিনে খাদ্য ও পুষ্টির ঝুকি হ্রাস পাবে। কৃষকদের আর্থিক সুদিন ফিরে আসবে।

উপজেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর