• শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||

  • চৈত্র ৩১ ১৪২৮

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

শরীয়তপুর বার্তা

মতি ব্যাপারীকে টিন ও নগদ অর্থ দিলেন ইকবাল হোসেন অপু এমপি

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: ঘর নেই, তাই সিমেন্টের বস্তা, পলিথিন আর বাঁশের তৈরি ছাপড়ার নিচে দুই বছর ধরে থাকছেন এক দম্পতি। অসহায় মতি ব্যাপারী (৩০) ও রাশিদা বেগম (২৫) দম্পতির ঝুপড়ির নিচে দুই বছর পার হলেও তাদের ভাগ্যে আজও জোটেনি সরকারি কোনো সাহায্য বা ঘর। সেই মতি-রাশিদাকে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর পক্ষ থেকে টিন ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম থেকে তিন বান্ডেল টিন ও নগদ ১৮ হাজার টাকা দেয়া হয়।

এসময় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন ফকির, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অফিস সহকারী গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, দুই শতাংশ জমির আর সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন ঘেরা ঝুপড়িটিই তাদের একমাত্র সম্বল। এই দম্পতির সংসারে আছে এক ছেলে রবিউল ব্যাপারী (৭) ও এক মেয়ে মরিয়ম (৩)। খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে অভাগা মতি-রাশিদা দম্পতির। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চন্দনকর গ্রামে।

কথা হয় অসহায় মতি ব্যাপারীর সঙ্গে। তিনি জানান, ২২ বছর বাবা-মার সঙ্গেই ছিলেন তিনি। তার বাবার নাম কাবিল ব্যাপারী। মা মাসুদা বেগম। তারা সাত ভাই, দুই বোন। তিনি ভাই বোনদের মধ্যে পঞ্চম। ২০১৪ সালে তিনি একই ইউনিয়নের সুবচনী চরমালগাঁও গ্রামে বিয়ে করেন। নিজের পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় বিয়ের পর নিজ বাড়িতে যায়গা হয়নি। তাই বিয়ের পর পরিবার নিয়ে দুই বছর শ্বশুর বাড়িতে থেকেছেন তিনি। পরে সেখানে যায়গা না হওয়ায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও এলাকার মঙ্গল খাঁর বাড়িতে থাকতেন। এর মাঝেই জন্ম হয় ছেলে রবিউল ও মেয়ে মরিয়মের। ওই বাড়িতে চার বছর থাকার পর বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। কোথাও থাকার জায়গা না পেয়ে পরিবার নিয়ে আবার বাপ-দাদার ভিটেয় এসে ওঠেন মতি ব্যাপারী।

মতি ব্যাপারীর অসহায়ত্বের কথা জানতে পারেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। জেলা প্রশাসক এক মাসের ভিতর মতি-রাশিদাকে ঘর দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মতি ব্যাপারী বলেন, আমি মাটি কাটা শ্রমিক। বিয়ের আগে বাবার ঘরে ছিলাম। বিয়ের পর থাকার যায়গা না থাকায় অন্যের বাড়ি বাড়ি ছিলাম। আমি গরিব, টাকার অভাবে ঘর তুলতে পারিনি। বাবার কাছ থেকে দুই শতাংশ জমি পেয়েছি। সেখানেই সিমেন্টের বস্তা, পলিথিন আর বাঁশে ঘেরা ছাপড়ার নিচে দুই বছর ধরে আছি। আজ এমপি স্যারে টিন ও নগদ টাকা দিল। আমি খুবই খুশি। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে টিনের ঘরে থাকবো।