বৃহস্পতিবার   ২১ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৬ ১৪২৬   ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

শরীয়তপুর বার্তা
৫৯৬

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০১৯  

আজকাল মাইক্রোওয়েভ ওভেন ছাড়া রান্নাঘর ভাবাই যায় না৷ চটজলদি খাবার গরম থেকে শুরু করে কিছু রান্নাও তাতে করা চলে৷ কিন্তু এই যন্ত্রটি শরীর-স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে কি? বিশেষজ্ঞরা এর নানা দিক তুলে ধরছেন৷

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কি সত্যি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন সারা ড্রিসেন৷ জার্মানির আখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে তিনি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ বা ক্ষেত্রের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে সব গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করেন৷ তিনি বলেন, ‘মাইক্রোওয়েভ ওভেন মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, এমন কোনো গবেষণার ফলাফলের কথা আমার জানা নেই৷ তবে মনে রাখতে হবে, মাইক্রোওয়েভ ওভেনের তরঙ্গ নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমিত রাখতে হয়৷ সেই নিয়ম মানা হচ্ছে, সেটা ধরে নিয়েই মূল্যায়ন করা হয়৷’

ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ও তার ক্ষতিকারক দিক নিয়ে বেশ কিছুকাল ধরে তর্কবিতর্ক চলে আসছে৷ মূলত মোবাইল ফোন বা হাই-ভোল্টেজ ইলেকট্রিক তারের কারণে ইলেকট্রিক স্মগ নিয়েই চর্চা হয়৷ এর ক্ষতিকারক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে৷ সারা ড্রিসেন বলেন, ‘তফাত হলো, টেলিফোন করার সময় কানে মোবাইল একটানা ধরে রাখতে হয়৷ ফলে অনেক সময় ধরে এই মাইক্রোওয়েভের প্রভাব থাকে৷’

ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের ভয় থাকলে মোবাইল ফোন ব্যবহার কমানো উচিত৷ মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ঝুঁকি সে তুলনায় অনেক কম বলে মনে হয়৷ তাছাড়া খাবার মোটেই কলুষিত হয় না৷ একমাত্র এক্সরে বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ সেটা করতে পারে৷ কারণ তাদের বিকিরণ ‘আয়নাইজিং’৷ সারা ড্রিসেন বলেন, ‘মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ হিসেবে আয়নাইজিং বিকিরণ করে না৷ আমরা বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্রের কথা বলি, বিকিরণ নয়৷’

মাইক্রোওয়েভে রান্না করা খাবার কি স্বাস্থ্যকর? এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন ভোক্তা সুরক্ষা তথ্য পরিষেবার প্রতিনিধি উটে গম৷ এই প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে খাদ্যপণ্য সম্পর্কে তথ্য দিয়ে থাকে৷ উটে গম বলেন, ‘নির্ভর করছে, কোন খাবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করা হচ্ছে৷ যন্ত্রটিকে আলাদা করে খারাপ বা ভালো বলা চলে না৷’

কিন্তু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে তাজা খাদ্য রান্না করলে কী ঘটে? যেমন ব্রকোলি৷ ইন্টারনেটে স্পেনের এক গবেষণার খবর ছড়িয়ে পড়ছে, যাতে দাবি করা হয়েছে যে মাইক্রোওয়েভে ব্রকোলির ফাইটোকেমিক্যাল প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফল মারাত্মক হতে পারে৷ উটে গম বলেন, ‘ফাইটোকেমিক্যাল ক্যানসার থেকে শরীরকে রক্ষা করে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে৷ তাই স্বাভাবিক কারণেই খাবারের মধ্যে তাকে অক্ষত রাখার চেষ্টা হয়৷ তাজা ফল বা শাকসবজির মধ্যে ফাইটোকেমিক্যাল ও রং থাকে৷’

মাইক্রোওয়েভে রান্না করার প্রক্রিয়াকে রন্ধনশিল্পে মোটেই কদর করা হয় না৷ রান্নার বদলে শুধু খাবার গরম করার ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ ভালো ও সহজ প্রক্রিয়া বটে৷ অর্থাৎ বলা যেতে পারে, যে ছোট সংসারে মাইক্রোওয়েভের ব্যবহার মেনে নেওয়া যায়৷ কিন্তু আদর্শ স্বাদ পেতে হলে ঠান্ডা খাবার খাওয়াই ভালো৷