• রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭

  • || ১৭ রজব ১৪৪২

শরীয়তপুর বার্তা

শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে চাঁদাবাজি করতো ওরা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২১  

শীর্ষ সন্ত্রাসী বিভিন্ন গ্রুপের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছয় জনকে গ্রেফতার গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, তুরাগ ও পল্টন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতি প্রাপ্ত) ওয়ালিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

উদ্ধার করা জিনিসপত্র  গ্রেফতারকৃতরা হলো, বেলাল খান, রাকিব খান টুটুল, আব্দুল হান্নান, দেলোয়ার হোসেন, মো. সোহাগ, খোরশেদ আলম। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও টেলিফোন ডায়েরি।

ওয়ালিদ হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির শিকার এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, একটি চক্র রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, খুলনা, বরিশালে বিভিন্ন লোকজনদের ফোন করে শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয় চাঁদা দাবি করছে এবং ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। অনেকে ভয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছে। এক ব্যবসায়ী তাদের ফোনে ভয় পেয়ে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছে। প্রতারকরা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে লেনদেন করতো।

চক্রটি তিন ধাপে চাঁদাবাজি করতো। ৮/১০ জনের একটি চক্র এমন তথ্য জানিয়ে ওয়ালিদ হোসেন বলেন, প্রথম ধাপে চক্রটি নীলক্ষেত ছাড়াও অনেক জায়গায় থাকে টেলিফোন ডায়েরি সংগ্রহ করতো। পরবর্তীতে সেই টেলিফোন ডায়েরি থেকে নানা ব্যক্তিদের টার্গেট করতো‌ দ্বিতীয় ধাপে আরেকটি গ্রুপ আগের গ্রুপ থেকে পাওয়া নম্বর থেকে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে ফোন দিত। ভয়-ভীতির দেখিয়ে বিকাশ ও নগদ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলতো। তৃতীয় ধাপে চক্রটি টাকা সংগ্রহ করত। তবে তারা শুধু শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করতো।

গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের মূল হোতা বেলাল খান ও রাকিবুল খান টুটুল প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত। তারাই বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে বের হওয়া টেলিফোন ডায়েরি সংগ্রহ করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম চালিয়ে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপ, সেভেন স্টার গ্রুপ, ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে লোকজনদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল চক্রটি। এরা মূলত নারায়ণগঞ্জ মাদারীপুর ও বরিশাল কেন্দ্রিক লোকজনদের টার্গেট করে হত্যার হুমকির মুখে চাঁদাবাজি করতো। গ্রেফতারকৃত ৬ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।