বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৭ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

শরীয়তপুর বার্তা
৭৪

সরকারি সম্পত্তি দখল করে ভোগ করছেন বিএনপি নেতা

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে প্রায় ৫কোটি টাকার সরকারী ভিপি সম্পত্তি দখল করে রেখেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। ১ একর ৩০ শতাংশ সরকারী ভিপি সম্পত্তি দখল করে ওই বিএনপি নেতা ইতোমধ্যে সেখানে পাকা ভবনও নির্মাণ করেছেন। পুকুরের মাছ ও বাড়ির গাছপালা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনেও রহস্যজনক কারণে তাকে উচ্ছেদ না করায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলসহ স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই নেতার ভয়ে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না। সরকারী ভিপি সম্পত্তি দখলকারী ওই বিএনপি নেতা বলছে, সরকারী নিয়মনীতি মেনেই তিনি ভিপি সম্পত্তি ভোগ-দখল করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা শীঘ্রই উচ্ছেদাভিযান পরিচালনা করবে এবং সে লক্ষ্যে কাগজপত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে।  
গোসাইরহাট উপজেলা ভূমি অফিস ও ইদিলপুর ইউনিয়ন তহশীল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোসাইরহাট উপজেলাধীন ৬৩ নং দাসের জঙ্গল মৌজার ২৭৯ নং এসএ খতিয়ানে ২৫৩ নং দাগে ৯২ শতাংশ বাড়ি ও ২৭৬ নং এসএ খতিয়ানের ৩৫৪ নং দাগের ৩৮ শতাংশ ভিটাসহ মোট ১ একর ৩০ শতাংশ জমি সরকারের কাছ থেকে লীজ গ্রহণ করেন গোসাইরহাট থানা বিএনপি’র সভাপতি দাসেরজঙ্গল গ্রামের মৃত খাদেম আলী সরদারের ছেলে আলাউদ্দিন সরদার। এরপর বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরদার অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির লক্ষ্যে শরীয়তপুর জেলা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং ৪৬/২০১২। কিন্তু চুড়ান্ত শুনানী শেষে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তারিখে  আদালত উক্ত মামলা খারিজ করে দেন।
এদিকে সরকারী ভূমি লীজের বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে পাকা-ইমারত নির্মাণসহ লীজের শর্ত ভঙ্গ করায় গত ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার লীজ বাতিল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাকে উক্ত সম্পত্তি থেকে সরানো হয়নি। বর্তমানে উক্ত জমির প্রতি শতাংশের মূল্য ৪ লাখ টাকা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। সেই হিসেবে কোন প্রকার বৈধতা ছাড়াই প্রায় ৫ কোটি টাকার সরকারী ভিপি সম্পত্তি ভোগ-দখল করে রেখেছেন ওই বিএনপি নেতা।
সম্প্রতি তিনি সরকারী এই বাড়ির পুকুর থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ও বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তকালে ইদিলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। ওই কর্মকর্তা তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে আলাউদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে গোসাইরহাট থানায় ২৯ সেপ্টেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ১১ দিন অতিবাহিত হলেও গোসাইরহাট থানা পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকতর তদন্ত করে বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনী প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে একট লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগটি এখনও এজাহারভূক্ত হয়নি।
এদিকে ঘটনার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরদারের মেয়ে জামাই পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিধায় এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কালক্ষেপণ করছেন।
আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান বলেন, এই সম্পত্তি আমার পিতার নামে লীজ  বন্দোবস্ত রয়েছে। বর্ণিত অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় উপজেলা ভূমি অফিস আমাদের কাছ থেকে লীজের টাকা গ্রহণ করছে না। আমাদের লীজ বাতিল হয়নি। আমরা অর্পিত সম্পত্তি থেকে কোন গাছ বা মাছ বিক্রি করিনি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন সরদারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অসুস্থ বলে জানান।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারী সম্পত্তি থেকে গাছ ও মাছ চুরি করা গ্রহণযোগ্য অপরাধ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অভিযোগে কোন গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারে। হয়তো বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ আইনের সেই প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, লীজকৃত সম্পত্তির কোন শ্রেণি বা আকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। আলাউদ্দিন সরদার নামে সেই ব্যক্তি লীজকৃত জমিতে পাকা ইমারত নির্মাণ করে লীজের শর্ত ভঙ্গ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে তার লীজ বাতিল করেছেন। সরকারী ভিপি সম্পত্তি থেকে তাকে উচ্ছেদ করার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বিষয়ে আমার নিকট কাগজপত্র প্রেরণ করলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই বিভাগের আরো খবর