• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় শরীয়তপুরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শরীয়তপুরে আনন্দ র‌্যালি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে র‌্যালিটি শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে স্থাপিত মুজিব মঞ্চে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এস.এম. আশরাফুজ্জামান, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান ফরাজী সহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের এই অর্জন তুলে ধরতে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান বলেন, জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি। “বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি। সমগ্র জাতির জন্য এটা অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের।

লক্ষ্য অর্জনের এই সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। সেই সাথে গতকাল আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছি। বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে।

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদন্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। সিডিপি তিনটি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে অনেক এগিয়ে গেছে।

উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মানদন্ডের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুন বেশি। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদ- ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫.৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদন্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। কিন্তু ওই সময়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭।