• রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে ৩০ প্রকল্প উদ্বোধন প্রতিবন্ধীদের ছাড়া রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়: শেখ হাসিনা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত প্রাণ ঝরেছে হিসাব নেই পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি

শরীয়তপুরে কৃষক হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২২  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কৃষক সামাদ মাদবর হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান এই রায় দেন।

একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আজিজুল মাদবর, রফিকুল মৃধা, লিটন মাদবর, মান্নান মৃধা, আ: আলিম মাদবর, মফিজ মৃধা, তারন ফরাজী, নুরুল হক মাদবর, জুলহাস মাদবর, আলাউদ্দিন ফকির, আ: বারেক মাদবর ও মনির মাদবর। তাদের সকলের বাড়ি  জাজিরা উপজেলার চরখোরাতলা গ্রামে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার চরখোরাতলা গ্রামে আজিজুল মাদবর ও মালেক ফকিরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারই জেরে ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল তাদের মধ্যে সংঘর্ষে মালেকের বাবা সাহেব আলী ফকির মারা যান। ১৫ এপ্রিল নিহত সাহেব আলীর ভাগিনা মোতালেব মাদবর ৩৪ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি মামলা করেন। এই ঘটনায়  থানায় ৪৪ জনকে আসামি করে কাউন্টার মামলা করেন প্রতিপক্ষ আজিজুল মাদবর।

এদিকে, ১৫ সালের ১ অক্টোবর সামাদ মাদবরকে কে বা কারা হত্যা করে ওই এলাকার ফসলি জমিতে ফেলে রেখে যায়। এঘটনায় জাজিরা থানার একটি মামলা হয়। সঠিক তদন্তের জন্য মামলাটি শরীয়তপুর সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে সিআইডি মামলাটিকে তদন্ত শেষে জানতে পারেন, আসামী আজিজুল মাদবরসহ ১২ জন মিলে পূর্বের মামলার সাক্ষী ও বাঁদিকে ফাঁসিয়ে দিতে নিজ দলের সমর্থক সামাদ মাদবরকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে শাহজালাল মাদবর  বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সাত বছর পর
পরে সিআইডি দুই বছর ৬ মাস তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে সকল সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই রায় দেন।

নিহত সামাদ মাদবরের ছেলে শাহজালাল মাদবর বলেন, আসামী ১২জন আমার বাবাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি আশাবাদি ছিলাম ৫/৭জনের ফাঁসির আদেশ হবে। তবে বিচারক যা রায় দিয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মির্জা হজরত আলী বলেন, আমি মনে করি এরকম দৃষ্টান্তমূলক সাজা হলে এলাকায় এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। আমরা রাষ্ট্র পক্ষের এই রায়ে সন্তুষ্ট।

আসামী পক্ষের আইনজীবী মো. শাহ আলম বলেন, আমরা আসমী পক্ষে ন্যায় বিচার পাইনি বলে মনে করি। আসামী পক্ষ মহামান্য হাইকোর্টে আপিল করবে।