• সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৬ ১৪৩০

  • || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
২৫ দিনের হরতাল-অবরোধে গণপরিবহন খাতে ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ পর্বত পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার অন্যতম উপাদান: রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্র যেন বাংলাদেশকে আর মানবাধিকার শেখাতে না আসে: রাষ্ট্রপতি মার্চের দিকে দুর্ভিক্ষ ঘটাতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন বিশ্বে অনুকরণীয়: প্রধানমন্ত্রী বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দেশে দুর্ভিক্ষ ঘটানো : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিডিপিতে বস্ত্র খাতের অবদান ১৩ শতাংশ : প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : রাষ্ট্রপতি

জাজিরায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় নিহতদের দাফনে সরকারি সহায়তা দান

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মাসেতু দক্ষিণ এলাকায় ট্রাকের সাথে অ্যাম্বুলেন্সের দুর্ঘটনায় নিহত ৬ জনের লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া  সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে জাজিরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক ফান্ড থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সহকারী রবিউল ইসলাম (২৬), রোগী জাহানারা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে লুৎফুন্নাহার লিমা (২৮) সহ  তিনজনের লাশ প্রথমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশগুলো হস্তান্তর করেন হাইওয়ে ফরিদপুর এর সার্কেল এএসপি মোঃ মারুফ হাসান।
নিহত ৬ জন হচ্ছেন, পটুয়াখালীর দশমিনার আদমপুর এলাকার আঃ রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে ফজলে রাব্বি (২৮), পটুয়াখালীর বাউফল থানার আমেরিকা প্রবাসী লতিফ মল্লিকের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫), মেয়ে লুৎফুন্নাহার লিমা (২৮), নবচেতনা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মাসুদ রানা (৩০), খুলনার দীঘলিয়ার চন্দনিমহল ৬নং ওয়ার্ডের এম্বুলেন্স চালকের সহকারী রবিউল ইসলাম (২৬) ও মাদারীপুরের মস্তফাপুর এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক জিলানি (২৮)।
নিহত জাহানারা বেগম (৫৫) এর মেয়ে শিল্পি আক্তার (৩০) জানান, তার মায়ের ক্লোন ক্যান্সার ছিলো। গতকাল ব্রেইন স্ট্রোক করায় প্রথমে বরিশালের বেলভিউ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তার মাকে নিয়ে ঢাকায় রওয়ানা হয় তার আত্মীয়-স্বজন। পথিমধ্যে জাজিরার পদ্মাসেতু প্রান্তে তারা দূর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সোহেল বলেন, আমরা আমাদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা ফান্ড থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেছি। এই সহায়তাটা মূলত তাদের সৎকারের জন্য সহযোগিতার  করা হয়ে থাকে।
হাইওয়ে ফরিদপুর সার্কেল এএসপি মোঃ মারুফ হাসান জানান, আমরা নিহত ৬জনের মৃতদেহই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে পেরেছি।  স্বজনরা এসে লাশগুলো দাফনের জন্য নিয়ে গেছে।
  উল্লেখ্য পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মা-মেয়ে ও চালকসহ ছয়জন নিহত হয়। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। পরে নিহতদের  মরদেহগুলো জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও জাজিরা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এন এন নুর আলম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নামের একটি অ্যাম্বুলেন্স বরিশাল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। এরই মধ্যে একটি ট্রাক ও ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে নাওডোবা এলাকায় চলন্ত ট্রাকের পেছনে সজোরে অ্যাম্বুলেন্সটি ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
জাজিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার এনামুল হক সুমন জানান, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়েছে। এমন খবরে সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাকটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই। আর লাশগুলো জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি আবু নাঈম মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও দক্ষিণ থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই। দুর্ঘটনা কবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রাক আমাদের হেফাজতে রয়েছে।