• বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৩ ১৪২৮

  • || ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

বৈদেশিক বিনিয়োগে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২১  

বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পর পর ৩ দফা এ দেশ চালানোর সুযোগ পেয়েছে। এই ৩ দফা নির্বাচনে জয় লাভের ফলে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ-পরিশ্রমী জনবল সৃষ্টি, আকর্ষণীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদার বিনিয়োগনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারের মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

আজ রোববার ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, ভারত, সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের ২,৩৩২ জন নিবন্ধন করেছেন জেনে আমি আনন্দিত হয়েছি।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য আমরা সম্ভাবনাময় ১১টি খাত চিহ্নিত করেছি। এসব হচ্ছে- অবকাঠামো, পুঁজিবাজার ও ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিকস উৎপাদন, চামড়া, স্বয়ংক্রিয় ও হালকা প্রকৌশল, কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ, পাট-বস্ত্র, এবং ব্লু-ইকোনমি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশে এসব খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। বিশ্বে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আস্থার ফলে ৭ শতাংশেরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। আমরা জাতীয় শিল্প নীতিসহ খাতওয়ারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। শ্রম আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। রফতানিমুখী শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশন করা হয়েছে। আমরা ৩৯টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা গড়ে তুলছি।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ২৭ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছি। মীরসরাই, সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর গড়ে তুলেছি। আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫ প্রণয়ন করেছি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে ৬৯টি পিপিপি প্রকল্পে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ প্রণয়ন করেছি। ২০১৯ সাল থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ৩৫টি সংস্থার ১৫৪টি বিনিয়োগ সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে এক তরফা শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাচ্ছে। আমরা বিভিন্ন বাণিজ্য জোটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অবকাঠামোসহ সব নীতিগত সহায়তা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই সময়ে বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান।