• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো: প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হিসাব করে চলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া শিক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৪ কর্মী: প্রধানমন্ত্রী পাতাল রেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিশ্বাস করি, তারা যদি চায় আমরা থাকবো: প্রধানমন্ত্রী সাগরের পানি থেকে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আলোচনা চলছে

রোপা আমন কাটা-মাড়াইয়ে উৎসবমুখর কৃষাণ-কৃষাণী

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

ফরিদপুরের সালথা ও নগরকান্দায় রোপা আমনসহ নানা জাতের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবে মেতে উঠেছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। উভয় উপজেলার চাষিরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান কেটে ফেলেছে। এবার সিত্রাংয়ের প্রভাবে ধান কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা ক্ষেতের রোপা আমন ধান দ্রুত ঘরে তুলে  পেঁয়াজ আবাদের দিকে নজর দিচ্ছেন।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। আশানুরূপ ফলন না হলেও সারা বছরের খাবার রোপা আমনেই চলে আসবে বলে উৎসবের ঘাটতি নেই। প্রতিটি গ্রামে গ্রামে চলছে নবান্নের উৎসব।  

সম্প্রতি সরেজমিনে এ দুই উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে কৃষকরা দল বেঁধে রোপা আমন ধান কাটছেন। একদল ধান কাটছে, আরেক দল আঁটি বেঁধে তা মাথায় করে নিয়ে বাড়ির উঠানে নিয়ে ফেলছে। আবার কেউ কেউ মাঠ থেকে ধানের আঁটি ভ্যানযোগে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে, বাড়ির নারীরাও বসে নেই। তারা মাঠের দিনমজুরদের খাবার সঠিক সময় পরিবেশন করেছেন। আঁটিগুলো খুলে শুকাতে দিচ্ছেন। পরে সেগুলোর আবার মেশিনের মাধ্যমে মাড়াই করছেন।

এদিকে, দুই উপজেলার গ্রামাঞ্চলের ভেতরের সড়কগুলো এখন কৃষাণ-কৃষাণীদের দখলে। সড়কের ওপর ধানের আঁটি শোকানো ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন তারা। আবার কুলা দিয়ে বাতাস করে ধানের চিটা দূর করছেন। এতে অবশ্য যান চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চালকদের। যেকোনো সময় দুর্ঘনার আশঙ্কাও রয়েছে। সড়ক ছাড়াও স্কুল এবং খেলার মাঠে ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ করতে দেখা গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাড়ির উঠানে পর্যপ্ত জায়গা ও রোদ থাকার কারণে খোলামেলা জায়গায় বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সালথা উপজলোর ভাওয়াল গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, এবার ধানের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ৪৯ জাতের ধান ভালো হয়েছে। প্রতিকাঠায় এক থেকে দেড় মণ পেয়েছি। কিন্তু আর পারিনা জাতের ধান বেশি খারাপ হয়েছে। প্রতি কাঠায় আধামণ করে পাবো কিনা সন্দেহ।   

ইউসুফদিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছিলাম। এর মধ্যে সিত্রাংয়ের প্রভাবে ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে দুই বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আর বাকি দুই বিঘায় ৩০ মণ ধান পেতে পারি। এতে আমার বছরের খাবার হয়ে যাবে। যা পেয়েছি এতেই সন্তুষ্ট। এখন ক্ষতির দিক চিন্তা না করে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলে পেঁয়াজ আবাদের দিকে নজর দিচ্ছি।  

নগরকান্দার কিনোকদিয়া গ্রামের কৃষক আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা জমিতে ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত। বাড়িতে নারীরাও বসে নেই। তারাও ধান শুকানো, মাড়াই ও উড়ানো নিয়ে ব্যস্ত। এবার ধানের দুই ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে কিছু নিচু জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে ও বৃষ্টির পানির অভাবে কিছু উঁচু জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে যা হয়েছে ভালোই হয়েছে। এতেই আমরা আনন্দিত। এখন দ্রুত ধান কেটে পেঁয়াজের জমি প্রস্তুত করতে হবে।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাস বলেন, সালথায় ১১ হাজার ৫৭৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছিল। ইতোমধ্যেই কৃষকেরা ৯৫ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন করেছেন। আর সিত্রাংয়ের প্রভাব খানিকটা পড়লেও সার্বিকভাবে ফলন আশানুরূপ হয়েছে। নবান্নের যে আমেজ এই হেমন্তে, তা কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে।

নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলোক কুমার ঘোষ বলেন, নগরকান্দায় ৯ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। সিত্রাংয়ের প্রভাবে কিছু এলাকার ধানের চারা হেলে পড়লেও এতে তেমন ক্ষতি হয়নি।