• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

এবার রোহিঙ্গা শিশুদের পেটের মধ্য দিয়ে ইয়াবা পাচার!

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

এবার রোহিঙ্গা শিশুদের পেটের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে ইয়াবা বহন করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রতি শিশুর পেটের ভেতরে প্লাস্টিক টেপে মোড়ানো এক থেকে তিন হাজার পিস ইয়াবা। তবে পেটে থাকা ইয়াবার টেপ খুলে গেলে শিশুদের মৃত্যু হতে পারে বলে শঙ্কা চিকিৎসকদের। চট্টগ্রামে এ ধরনের ইয়াবা বহনের সময় র‌্যাবের হাতে এক কিশোর এবং ৫ শিশু আটক হওয়ার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ওই শিশু-কিশোরদের আটক করা হয় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসা একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে। বাসে করে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে ঢুকছে তথ্য পাওয়ার পর র‌্যাব চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করলেও ইয়াবার কোনো সন্ধান পায়নি। কিন্তু বাসে পাওয়া যায় সন্দেহজনক গতিবিধির এক কিশোর এবং ৫ শিশুকে।
 
৫ শিশুরই বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর। আর কিশোরটির বয়স ১৭ বছর। পরবর্তীতে শিশুদের শরীরের এক্সরে করে টেপ মোড়ানো ইয়াবার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পাওয়া যায় ১১০টি পুঁটলির মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবা।
 
র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, এ ধরনের মাদক পরিবহনের কাজে যারা শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে তারা ভয়াবহ অপরাধ করছে এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত আছে তাদের আমরা খুঁজে বের করবে এবং তাদের আইনের আওতায় আমরা নিয়ে আসব।

এর আগে বয়স্কদের শরীরে করে ইয়াবা বহনের একাধিক ঘটনা ঘটলেও শিশুদের মাধ্যমে বিপজ্জনকভাবে ইয়াবা আটক এই প্রথম। তবে শিশুদের পেট থেকে ইয়াবার পুঁটলি বের করতে গিয়ে জটিল অবস্থার মধ্যে পড়েন চিকিৎসকরা।
 
র‌্যাব-৭ এর বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ইয়াবা যে পলিথিনের প্যাকেটগুলোতে মোড়ানো থাকে সেখান থেকে যদি কোনো কারণে খুলে যায় তাহলে বিপদ হতে পারে। আমরা জানি যে ইয়াবা সাধারণত ক্যাফেইন এবং এমফিটামিন এর একটি কম্বিনেশন। এতে করে স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজক হিসেবে কাজ করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং হার্টের রেট বেড়ে গিয়ে হার্টফেল করে মারাও যেতে পারে।
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত শিশুরা জানিয়েছে, টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের এসব শিশুকে পাশের একটি পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে তাদের শরীরে এসব ইয়াবা ঢোকানো হয়েছিল। প্রতি হাজার পিস ইয়াবা বহনের জন্য তাদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল।
 
র‌্যাব-৭ এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাসির উল হাসান খান বলেন, ইয়াবা পরিবহনের জন্য রোহিঙ্গা শিশুরা যে রকম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে সে রকম বাঙালি শিশুরাও অল্প বয়সে অধিক লাভের ক্ষেত্রে অধিক পয়সা উপার্জনের জন্য তারা এ রকম বিপথগামী হতে পারে। যেটা আমাদের যুব সমাজের জন্য আমাদের শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
 
আরও অন্তত দু'বার এভাবে তারা ইয়াবার চালান চট্টগ্রাম পৌঁছে দেয় বলে আটক শিশু-কিশোররা স্বীকার করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা করেছে র‌্যাব।