• শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

‘তাইনর বাপে দিচে টিনের ঘর, তাইনে দিচে পাকা ঘর`

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২১  

তাইনর বাপে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দিচে টিনের ঘর, তাইনে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দিচে পাকা ঘর। তাইনর বাপ মানসেরে কইতো, ছনের ঘরে থাকবা ক্যান? টিনের ঘরে থাকবা তোমরা। আর তাইনে কয় আমার মানুষ থাকবো পাকা ঘরে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদরের জাঙ্গাল গ্রামের ৯০ বছর বয়সী জিল্লর মিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দুই শতক জায়গাসহ একটি পাকা ঘর পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন ঠিক এভাবেই। বৃদ্ধ জিল্লর মিয়ার মতো আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাচ্ছেন আরও ২০ গৃহহীন পরিবার। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরের চাবি বুঝে পাবেন তারা।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ জুন সারাদেশের ৫৩ হাজার ৩৪০টি হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবার পেয়েছে উপহারের এই পাকা ঘর। এ পর্যায়ে জাঙ্গাল গ্রামের এই ২০ পরিবারেরও হয়েছে মাথা গোঁজার ঠিকানা। এরইমধ্যে নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে ঘরগুলোর। যারা ঘর পাচ্ছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে বেশিরভাগকে দেখা গেলো নতুন ঘরে কিংবা আশপাশেই। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর না হলেও এরইমধ্যে নিজের স্বপ্নের ঠাঁইটুকু ঘুরে-ফিরে দেখছেন। মনে মনে হয়তো নানান স্বপ্নের বুননে সাজিয়ে তুলছেন ঘরের প্রতিটি কোণা। তাদের সঙ্গে আলাপকালে মিললো ঠিকানা পাওয়ার উচ্ছ্বাস আর প্রাপ্তির ভালো লাগা।

স্থানীয় বাজারে একসময় ডিম বিক্রি করতেন জিল্লর মিয়া। বয়সের ভারে ন্যুব্জ জিল্লর এখন কায়িক শ্রম দিতে পারেন না। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকে আমার এই আনন্দ আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কাউকে বোঝাতে পারবো না।

নিজেকে কাঙাল দাবি করে তিনি বলেন, স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সংসারের টানাপোড়েনে পাকা ঘর তৈরির স্বপ্ন দেখেননি কখনোই। আর ভাড়া বাসাতেও থাকার সামর্থ্য হয়ে ওঠেনি। কখনও ছনের ঘর, কখনও পাটের হোগলা দিয়ে ঘর বানিয়ে ফুটপাতেই কেটেছে জীবনের বেশিরভাগ সময়। তার কথায়, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে শেখ হাসিনার বদৌলতে পাকা ঘরে থাকতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপকারের কথা কখনও ভুলবেন না তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করার নসিয়ত তার।

শেষ বয়সে এসে নিরাপদ, আরামদায়ক আবাস পাওয়ার আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল জিল্লরের স্ত্রী মোছা. আলমচার চোখে-মুখে।

পাশের আরেক ঘরে দেখা মিললো তিন কিশোরীর। এরইমধ্যে নতুন ঘরে বিছানাও পেতেছে তারা। বিছানার ওপরেই বসে তারা গল্প করছিল। তাদের মধ্যে সবার বড় জনের নাম অর্ণা রানী। সে স্থানীয় রামকানাই হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার ছোট বোন অন্বেষা একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। নতুন ঘর দেখতে এসেছে অন্বেষার বান্ধবীও। এর আগে ভাড়া বাসায় থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। তবে সেখানে বিদ্যুতের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এবার নিজেদের ঝকঝকে নতুন বাসায় বিদ্যুতের ব্যবস্থাও আছে। এই আনন্দে আত্মহারা তারা। অর্ণা বললো, আমাদের এখন নিজেদের পাকা ঘর আছে, বিদ্যুৎও আছে। ভাবতেই অন্য রকম লাগছে। আমরা এখন থেকে বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করতে পারবো, টেলিভিশন দেখতে পারবো। খুবই আনন্দ লাগছে।

তাদের মা বিথিকা রানী বলেন, ভাড়া বাসায় অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। একটি নিজের ঘর পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। সব সুযোগ-সুবিধা আছে এই ঘরে। মেয়েদের নিয়ে নিজেদের পাকা ঘরে নিরাপদে থাকবো। খুবই ভালো লাগছে।

জাঙ্গাল গ্রামে স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন শফিকুল ইসলাম নামে এক রিকশাচালকও। তিনি জানালেন, স্ত্রী ঝর্ণাকে নিয়ে একসময়ে যেনতেন উপায়ে কেটেছে জীবন। কখনও ফুটপাতে, কখনও বস্তির ভাড়া ঘরে। নিজের ঘর বলতে ছিল না কিছুই। পাকা ঘর পেয়ে বেঁচে থাকার সাহস বেড়েছে। নিজের একটা ঠিকানা হয়েছে। এতে জীবনে নিরাপত্তা, সম্মানবোধ অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শফিক বলেন, আমরা এখন আত্মবিশ্বাসী। ঘর পেয়েছি, জায়গা পেয়েছি, পেয়েছি বিদ্যুৎও। শফিকের স্ত্রী ঝর্ণা বলেন, শেখ হাসিনার জন্য প্রাণভরে দোয়া করি।

প্রসঙ্গত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছর জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় সারাদেশে প্রায় ৭০ হাজার হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘর উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম ধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক হাজার ৯১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পায় এ উপহার। দ্বিতীয় ধাপে মোট ৬৮১ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর। ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় যাদের জমি নেই, ঘর নেই তাদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি খাস জমিতে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই শতাংশ জমির ওপর দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি আধা পাকা ঘর নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব ঘর একই নকশায় হচ্ছে।