• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

পদ্মা সেতুর ৩ বিশ্ব রেকর্ড

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২২  

তিনটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় কোটি বাঙালির স্বপ্ন সংযোগ পদ্মা সেতু। চল্লিশ তলার সমান পাইলিং, দশ হাজার টনের বেশি ধারণ ক্ষমতার বেয়ারিং আর নদী শাসনে এ মেগা স্ট্রাকচার গড়েছে বিশ্ব রেকর্ড। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হলে একশ বিশ বছরেও কিছু হবে না এ সেতুর।

খরস্রোতার দিক দিয়ে আমাজনের পরেই পদ্মার অবস্থান। পানি প্রবাহের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে। তেমন একটি নদীকে বশে এনে নিজের টাকায় এমন ইমারত। উদ্‌যাপনের এর চেয়ে বড় উপলক্ষ কিই বা হতে পারে ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের একটি দেশের! সেই উৎসবের প্রস্তুতি এখন পদ্মার দুই পাড়ে। প্রমত্তা এক নদীর বুকচিড়ে এক মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠায় এখন বাংলাদেশ।

তবে বাঙালির গর্বের আর আত্ম অহংকারের প্রতীক এই সেতু কেবল দেশেই নয়, বিশ্ব জুড়েও গড়েছে একাধিক রেকর্ড। এমন বহুরূপি একটি নদীর তলদেশে পাইলিং করতেও কম বিপাকে পড়তে হয়নি।

একেকটি পিলারের নীচের মাটি ছিল একেক রকম। শেষ পর্যন্ত ১২০ থেকে ১২৮ মিটার পাইলিং করতে হয়েছে। পিলারের ওপর দশ হাজার ৫০০ টন সহনশীল বেয়ারিং বসানো হয়েছে, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড। আবার রেকর্ড পরিমাণ নদী শাসন করেই বাগে আনতে হয়েছে পদ্মাকে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব (সেতু বিভাগ) বেলায়েত হোসেন বলেন, একটি ৪০ তলা ভবন মাটির নিচে। সানফ্রানসিস্কোতে অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে যেটা আছে, সেটা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টন সহনশীল। পদ্মা সেতুতে কিন্তু ১০ হাজার ৫০০ টন সহনশীল বেয়ারিং বসানো হয়েছে। আরেকটা বিশ্বরেকর্ড হলো, এখানে দুই দিকে ১২ কিলোমিটার নদী শাসনের যে কাজটি আছে, সেটি সিঙ্গেল কন্টাক্টে বিশ্বে সর্বোচ্চ।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের একটি গাইডলাইন করে দেবেন তারা। সেই অনুসারে পরিচালনা করলে একশ’ বছরের বেশি টিকে থাকবে এই স্বপ্নের ইমারত।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি রক্ষণাবেক্ষণের গাইডলাইন দেবো। কোন কাজ কখন করতে হবে, কোন কাজ প্রতিদিন করতে হবে, কোন কাজ সপ্তাহে একবার করতে হবে, কোন কাজ মাসে একবার করতে হবে, কোন কাজ বছরে একবার করতে হবে, কোন কাজ ৫ বছর পরপর করতে হবে- এই গাইডলাইন যদি তারা ঠিক মতো প্রতিপালন করেন, তবে এই সেতুর আয়ু শত বছরের বেশি না হওয়ার কোনো কারণ নেই।‘

দ্বিতলবিশিষ্ট ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের এই সেতু চালু হলে তা দেশের জিডিপি এক দশমিক দুই ভাগ বাড়াবে।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই তাদের নিয়োগ দেয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু করার চূড়ান্ত নকশা করা হয়।