• রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে ৩০ প্রকল্প উদ্বোধন প্রতিবন্ধীদের ছাড়া রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়: শেখ হাসিনা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত প্রাণ ঝরেছে হিসাব নেই পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন: গতি আসবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। সড়কপথে বাসে এ দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টা। আর এ মহাসড়কে যানজটে পড়লে পেরিয়ে যায় ছয়-সাত ঘণ্টা এমনকি তারও বেশি।

তবে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালু হলে ছয়-সাত ঘণ্টার এ দূরত্ব নেমে আসবে অর্ধেকে; কমবে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসার পাশাপাশি সুযোগ সৃষ্টি হবে বহুমাত্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের।

স্বপ্নপূরণের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ। এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে ৭০ শতাংশ। এরই মধ্যে কক্সবাজার অংশে ২৮ কিলোমিটার পথে বসেছে রেললাইন। আগামী বছরের জুনে প্রথমবারের মতো ঢাকা-কক্সবাজার পথে রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য পর্যটন শহর কক্সবাজার। স্থানীয়দের কাছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এক সময়ে স্বপ্ন ছিল, অনেক দিন পর সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। তাই এ প্রকল্পকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নও দেখছেন স্থানীয়রা।

রামুর জোয়ারিয়ানালার বাসিন্দা রহিম বলেন, আমার বয়স এখন ৭০ বছর। এখন দেখছি; রেললাইন বসে গেছে, হয় তো বেঁচে থাকতেই দেখে যেতে পারব কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই রেললাইনে দীর্ঘ ৯ মাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। ভালো আয়-রোজগারও করেছি। এখন ট্রেন আসলেও কাজ-কর্ম পাব এটাই আশা করছি।

আরেক বাসিন্দা ছৈয়দুল করিম বলেন, রেললাইনের দ্রুতগতিতে কাজ যে চলছে এতে অনেক খুশি লাগছে। অনেক সময় মনে হতো কোনো দিন কক্সবাজারে ট্রেন আসবে না। কিন্তু এখন যে রেললাইন বসে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে দ্রুত কক্সবাজার ট্রেন আসবে এবং আমরা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকা চট্টগ্রাম যেতে পারব।

আবদুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন; ট্রেন আসলে কক্সবাজারের উৎপাদিত লবণ, মাছ, সবজি দ্রুত ঢাকা-চট্টগ্রাম বিক্রি করা যাবে। এতে আমরা ব্যবসায়িক লাভবান হতে পারব এবং আয়ও বাড়বে।

পর্যটননগরী কক্সবাজারকে ঘিরে চলছে সরকারের ১৯১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। যার মধ্যে দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যটন অর্থনীতিতে সুবাতাস বয়ে আনার পাশাপাশি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা করবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন বছরজুড়েই কক্সবাজারে পর্যটকেরা আসেন। তবে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের আগমন বেশি। রেলের মতো নিরাপদ বাহন চালু হলে মৌসুমের বাইরেও পর্যটক বাড়বে। পর্যটক যত বাড়বে, তত বেচাকেনা বাড়বে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের বিক্রি বাড়বে। লেনদেনও বাড়বে।

কক্সবাজারে যেতে এখন পর্যটকদের প্রধান ভরসা সড়কপথ। আকাশপথে আসা পর্যটকের সংখ্যা সীমিত। পর্যটন অর্থনীতি চাঙা থাকে মূলত শুষ্ক মৌসুমে। রেলওয়ে হলে সারা বছর পর্যটক পাওয়ার আশা করছেন হোটেল-মোটেলের উদ্যোক্তারা।

পর্যটনের পর কক্সবাজারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি খাত হলো- লবণ, কৃষিপণ্য, মৎস্য ও শুঁটকি। এসব পণ্য কম খরচে আনা-নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিপণ্য সহজে আনা-নেওয়ার সুবিধা থাকলে কৃষকেরও দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যেও কিছুটা গতি আনতে পারে নতুন রেললাইন।

কক্সবাজার চেম্বারের পরিচালক আবিদ আহসান সাগর বলেন, রেল চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের বহুমুখী যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। এ জন্য কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটিতে পরিণত করতে হবে। এখনকার নোংরা, অপরিচ্ছন্ন অবস্থা দূর করে সুন্দর শহর তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। সেটা বাস্তবায়িত হলে রেল, বিমানবন্দরসহ যেসব অবকাঠামো হচ্ছে, সেগুলোর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার একটি বিকাশমান জেলা শহর। ঢাকা ঢু কক্সবাজার সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হলে কক্সবাজারের আরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন হবে। পাশাপাশি বহুমাত্রিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করি।

আর রেল সচিব ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, টার্গেট অনুযায়ী ২০২৩ সালে কক্সবাজারে ট্রেন চলবে এ লক্ষে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু হবে; ইনশাআল্লাহ।

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু কক্সবাজার থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার অংশের কাজ হচ্ছে না।