• রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

শরীয়তপুর বার্তা

আমদানি-রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী মোংলা বন্দর, রাজস্ব আয়েও সফলতা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪  

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরইমধ্যে পশুর চ্যানেলে ড্রেজিং, আধুনিক নৌযান, যন্ত্রপাতি সংযোজন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগের ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে জাহাজ আগমন ও আমদানি-রফতানি পণ্য খালাস-বোঝাই। এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে, অন্যদিকে জাহাজ আগমন ও পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।

তবে পদ্মাসেতু চালু হলেও পণ্য আমদানি-রফতানি ও রাজস্বে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি মোংলা বন্দর বলে দাবি বন্দর ব্যবসায়ীদের। এ বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিও জানান তারা।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে এ বন্দরে জাহাজ আগমন ছিল ৮২৭টি আর ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে জাহাজ আগমন করেছে ৮৪৬টি। গত বছরের তুলনায় এ বছরে জাহাজ আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯টি। কার্গো হ্যান্ডলিং গত অর্থ বছরে ছিল ৯৯.০৫ মেট্রিক টন, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০৮.৬৮ মেট্রিক টন এবং ২৬৫৮৩ টিইইউজ কন্টেইনার থেকে এ অর্থ বছরে ৩১ হাজার ০৪৪ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে এ বন্দর দিয়ে। আর গাড়ি আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার ৫৭৬টি থেকে ১৫ হাজার ৩৪০টি। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৬৪টি গাড়ি বেশি আমদানি হয়েছে মোংলা বন্দরে।

২০২২-২৩ অর্থ বছরে রাজস্ব আয় হয় ৩০২ কোটি টাকা। আর ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রাজস্ব আসে ৩১৯ কোটি টাকা, মোংলা বন্দর নীট মুনাফা করেছে ১৭ কোটি টাকা। অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের অর্জিত রাজস্ব আয় ২৮.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে জাহাজ আগমন, পণ্য আমদানি-রফতানি, কার্গো হ্যান্ডলিং ও গাড়ি আমদানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও জাহাজ বেশি এসেছে মোংলা সমুদ্র বন্দরে।

পদ্মা সেতুর চালু হওয়ায় দেশ-বিদেশি জাহাজ আগমন, কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও গাড়ি আমদানিসহ এ বন্দরে নানামুখী কর্মচঞ্চল হওয়ার কথা থাকলেও আশানুরূপ না হওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের। এ জন্য দেশের আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ীদের এ বন্দরের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরও উদ্যোগী হওয়ার দাবি তাদের। তবেই দেশের অন্য বন্দরগুলোর তুলনায় মোংলা বন্দর হবে একটি আধুনিক ও লাভজনক ব্যবসা বান্ধব সমুদ্র বন্দর। এর ফলে বন্দরের বাড়বে রাজস্ব আর মানুষের হবে কর্মসংস্থান।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব বন্দরে রুপান্তরতি করার লক্ষে জাহাজ আগমন ও পণ্য ওঠানামাসহ ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ। এছাড়া ব্যবসায়ীদের মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে চ্যানেল ড্রেজিংসহ ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মোংলা বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন, রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি, কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং গত বছরের তুলনায় এ অর্থ বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

সব সূচক পজিটিভ ধারায় থাকার ফলে বন্দরে নিট মুনাফা ২৮.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা আগামী বছরে এর দ্বিগুণ হবে বলে আশ্বস্ত করেন বন্দরের চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের মহাকর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। এ বন্দর থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পণ্য আনা নেয়া করা যাচ্ছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় এবং অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। পদ্মা সেতুর কল্যাণে রাজধানীর সব থেকে কাছের বন্দর হওয়ায় মোংলা হয়ে পোশাকশিল্পের বিভিন্ন পণ্যও যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ব্যবসায়ীদের আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যগুলোকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে রাখা ছাড়াও তাদের সুযোগ সুবিধার সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দর।’