• শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

ভ্যাটের আসল রসিদ চেনার উপায়

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

বিল পরিশোধের সময় একটু সচেতন হলেই আপনার দেওয়া ভ্যাট সরকার ঠিকভাবে বুঝে পাবে। প্রয়োজন আপনার সচেতনতা। একটু খেয়াল করতে হবে আপনাদে দেওয়া ভ্যাটের রসিদটির দিকে। জেনে নেয়া যাক কোন বিষয়গুলো খেয়াল করা জরুরি।

রেস্টুরেটে আপনার পরিশোধিত টাকার একটি রসিদ দেওয়া হয় সব সময়। এটি অবশ্যই বিল পরিশোধের পর দোকানি থেকে বুঝে নেবেন। সেখানে নিশ্চিত হতে হবে আপনাকে কত টাকা আপনার ক্রয় করা পণ্য বা খাবারের দাম আর কত টাকা ভ্যাট। তবে সেটি বুঝে নিলেই যে হয়ে গেল বিষয়টি তা নয়। কারণ আপনাকে ধরিয়ে দিতে পারে ভুয়া ভ্যাট রসিদ বা চালান। বুঝতে হবে রসিদের আসল নকলও।

উল্লেখ্য, গত তিন মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বা ভ্যাটের মেশিন বসানো শুরু করেছে। এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন বসানো হয়েছে। তাই আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে ইএফডি বসানো হয়েছে এমন সাইনবোর্ড আছে কি না তা দেখে নেয়া

ইএফডি মেশিন:
ইএফডি হচ্ছে একটি কম্পিউটারাইজড যন্ত্র। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য বেচাকেনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহার করা হয়। রাজস্ব বিভাগ এটির মাধ্যমে ব্যাবসায়িক লেনদেন বা কেনাবেচায় সরাসরি নজর রাখতে পারে। যেসব দোকানে এ মেশিন রয়েছে ওই দোকান থেকে পণ্য বা সেবা কিনলে যে রসিদ দেওয়া হবে, তাতে একটি বারকোড থাকবে। আপনার স্মার্টফোনে বারকোডটি স্ক্যান করলেই এনবিআরে দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য চলে আসবে আপনার সামনে। এ ছাড়া ওই রসিদে মূসক চালান ৬ দশমিক ৩–এর কথা উল্লেখ থাকবে। এমনকি পণ্য বা সেবার মূল্যের কত শতাংশ ভ্যাট কাটা হয়েছে তা–ও লেখা থাকবে। যদি পণ্য মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা থাকে, তা–ও উল্লেখ থাকবে।

ইএফডি মেশিন না থাকলে?
সাধারণত এসব দোকানের দৃশ্যমান স্থানে ভ্যাট নিবন্ধনের সনদ ঝুলিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। যদি থাকে তাহলে বুঝে নেবেন, ওই দোকানের ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া আছে। এসব দোকানে দুই ধরনের ভ্যাটের রসিদ দেওয়া হয়। যেমন আড়ং, স্বপ্নের মতো দোকানে ইএফডি মেশিনের মতো মেশিন ব্যবহার করা হয়। এসব মেশিনের মাধ্যমে দেওয়া রসিদে ১৩ সংখ্যার ভ্যাটের নিবন্ধন নম্বর থাকে। তবে অভিযোগ আছে, অনেক দোকানের রসিদে ৯ বা ১১ সংখ্যার ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর দিয়েই বলা হয়, ভ্যাট নেওয়া হয়েছে। মনে রাখবেন, পুরোনো এসব নম্বরের এখন আর কার্যকারিতা নেই। আপনার কাছে ভ্যাট নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার জন্য এটি করা হয়।

আবার হাতে লিখা ছাপানো মূসক চালান দেওয়া হয়। এসব চালান বিভিন্ন রংয়ের হতে পারে। সাধারণত সাদা ও নীলই বেশি। চালানে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর, পণ্যের বিবরণ, দাম, ভ্যাট, বিক্রেতার স্বাক্ষর ইত্যাদি থাকবে।