• রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯

  • || ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে ৩০ প্রকল্প উদ্বোধন প্রতিবন্ধীদের ছাড়া রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়: শেখ হাসিনা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত প্রাণ ঝরেছে হিসাব নেই পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের সভা বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় কর ব্যবস্থাপনা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে চোখ পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী আইসিওয়াইএফ থেকে পাওয়া সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছি

দায়মুক্ত হতে শেষ বয়সে রেলের পাওনা পরিশোধ করলেন এমদাদুল হক

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

জীবনে অনেকবার টিকিট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা এমদাদুল হক (৬৫)। গতবছর অবসরে যাওয়ার পর সময় হয়েছে অনেক কিছু চিন্তা করার। অবশেষে মানসিক প্রশান্তির জন্য তিনি রেলওয়ের সেই পাওনা ফেরত দিয়েছেন। জীবনে যতবার বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করেছেন, তার সব হিসেব করে পরিশোধ করে দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

সোমবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে আসনবিহীন টিকিট কাটার মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন এমদাদুল হক। এ সময় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন প্রধান বুকিং সহকারীর অফিসে বসিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। সেখানে স্টেশন মাস্টার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

এমদাদুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কনিকাড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক এমদাদুল দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসরে যান।

জানা গেছে, জীবনে যতবার বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করেছিলেন তার হিসেব করে রেখেছিলেন এমদাদুল। দেনার দায় থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে হিসাব করে দুই হাজার ৫৩০ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এমদাদুল হকের বড় ছেলে ইমরান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বাবা সৎভাবে জীবনযাপন করেন। অন্য কেউ মনে কষ্ট পাবেন এমন কাজ তিনি কখনও করেননি। কারও কাছে এক টাকা ঋণ থাকলেও তাকে খুঁজে বের করে পরিশোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, শেষের দিকে বাবা দুদকের হেডকোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা ট্রেনে অনেকবার যাতায়াত করেছেন। সেসময় বিভিন্ন কারণে তিনি ট্রেনে টিকিট না কেটে আসা-যাওয়া করেছেন। কিন্তু যতবার তিনি ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করেছেন, তার হিসেব তিনি করে রেখেছিলেন। আর সেই হিসেব অনুযায়ী তিনি সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে টাকা পরিশোধ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশন কাউন্টারে এক ব্যক্তি আসেন বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের টাকা পরিশোধ করবেন বলে। তিনি জানান যে, আগে বিভিন্ন সময়ে টিকিট না কেটে ভ্রমণের হিসেব তার কাছে আছে। সে হিসাবে তিনি দুই হাজার ৫৩০ টাকা রেলওয়েকে দিতে চান। তখন স্টেশন বুকিং কাউন্টার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনে দুই হাজার ৫৩০ টাকা সমমূল্যের আসনবিহীন টিকিট ইস্যু করে দেওয়া হয়। পরে উনাকে স্টেশন প্রধান বুকিং সহকারীর অফিসে বসিয়ে আপ্যায়ন এবং ধন্যবাদ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এমদাদুল হক নতুন প্রজন্মকে একটি শিক্ষা দিয়ে গেলেন যে রেলে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা অন্যায়। উনি সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। তার ট্রেন ভ্রমণে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব।

স্টেশন টিকিট বুকিং সহকারী দিদার মোল্লা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনে দুই হাজার ৫৩০ টাকা সমমূল্যের আসনবিহীন টিকেট ইস্যু করা হয় এমদাদুল হকের নামে। তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন।

এমদাদুল হক বলেন, যতো পূণ্যই করি না কেন এই দেনার দায় তো কোনো পূণ্য দিয়ে শোধ করার উপায় নেই। তাই সরাসরি রেলের খাতেই জমা দিয়ে দিলাম। জানি না তাতে আমার দায় মুক্তি হবে কি না। তবে মানষিক প্রশান্তি পাবো।