• শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৯ সফর ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মাদরাসার অধ্যক্ষ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সালিসে এক মাদরাসার অধ্যক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১০টি জুতাপেটা করেছে গ্রাম্য মাতব্বররা। স্থানীয় ইউপি সদস্যর নেতৃত্বে  এই সালিস বসে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট সংলগ্ন মাঝিরচর স্থানীয় ওয়াহাব মাঝির বাড়িতে ওই সালিস বৈঠক বসে।

আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত আমির হামজাকে (৩০) গ্রেফতার করেছে জাজিরা থানা পুলিশ। আমির হামজা উপজেলার মাঝিকান্দি বাইতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ তিনি।

ইউপি সদস্য আজাহার মুন্সী, রাজ্জাক মাঝি, কালু মাঝি, রোকন, ওয়াহাব মাঝিসহ আরও একজন গ্রাম্য মাতব্বরকে ওই মামলায় আাসামী করা হয়েছে বলে জানান জাজিরা থানার তদন্ত ওসি মিন্টু মন্ডল।

পুলিশ ও গ্রাম্য মাতব্বরদের ভাষ্য, নয় বছরের ওই শিশু স্থানীয় একটি মাদরাসায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৩ এপ্রিল সকালে বাইতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন আমির হামজা। ওই শিশু তার মাকে ঘটনা খুলে বলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে চাইলে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা মিমাংসার কথা বলে ১৫ এপ্রিল স্থানীয় ওয়াহাব মাঝির বাড়িতে এক সালিস বৈঠক বসায়। সালিশ বৈঠকে গ্রাম্য মাতব্বর পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদ ৯নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আজহার মুন্সী, রাজ্জাক মাঝি, ওয়াহাব মাঝি, কালু মাঝি, রাজ্জাক মাঝি, বাচ্চু মাদবর, লতিফ ব্যাপারীসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিস বৈঠকে  ওয়াহাব মাঝি সভাপতিত্ব করেন। আমির হামজার বিরুদ্ধে ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। গ্রাম্য মাতব্বররা সালিসে জুড়িবোর্ডের মাধ্যমে অভিযুক্ত আমির হামজাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন মাতবররা। একই সঙ্গে ১০টি জুতাপেটার আদেশ দেয়া হয়।

আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ওই শিশুর বাবা বাদি হয়ে জাজিরা থানায় মামলা করেন। পরে আসামী আমির হামজাকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দুপুরে তাকে শরীয়তপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রাম্য মাতব্বর ইউপি সদস্য আজহার মুন্সী মুঠোফোনে বলেন, আমি ওই শিশুর বাবাকে থানায় মামলা করতে বলেছিলাম। কিন্তু মামলা করেনি। পরে ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় রাজ্জাক মাঝি আমাকে সালিসে দাওয়াত করে। আমি সালিসে যাই। সালিসে জুড়িবোর্ডের মাধ্যমে অভিযুক্তকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ১০টি জুতাপেটার আদেশ দেন মাতব্বররা।

পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. লাল চাঁন মাদবর মুঠোফোনে বলেন, ধর্ষণের বিচার টাকা ও জুতাপেটা হতে পারে না। গ্রাম্য মাতব্বররা এটা অন্যায় বিচার করেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। আসামী আমির হামজা ও গ্রাম্য মাতব্বরদের বিচার হওয়া উচিত। আমি চাই ন্যায় বিচার হোক।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিন্টু মন্ডল বলেন, ওই শিশুর বাবা মামলা দায়ের করার পর আসামী আমির হামজাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় যারা সালিস বৈঠক করেছে এমন ছয়জন মাতব্বরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেস্টা চলছে। ওই শিশুকে মেডিকল পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।