• রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

শরীয়তপুর বার্তা

সেই গোলাপী পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

১৩ বছর ধরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা জয়ন্তী নদীতে বসবাস করা বৃদ্ধ মা গোলাপী (৯০) ও তার ছেলে নুরু মিয়া (৫৫) এবার জল ছেড়ে ডাঙায় উঠেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে উঠেছেন তারা। তাদের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হলো। গত ২০ জুন ঘরের মালিকানার কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে মা-ছেলেকে।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। 

জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর ও জমি প্রদানের কার্যক্রম নিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর গোলাপী ও তার ছেলে নুরু মিয়াকে দেয়া হয়েছে।

ডিসি বলেন, গত ২০ জুন গোলাপীকে ঘরের মালিকানার কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আজ তাকে ঘর, ঘরের ফার্নিচার, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। যাতে গোলাপী ও তার ছেলে নুরু মিয়া আনন্দে দিনগুলো কাটাতে পারে। তার সুখের সাথে আমরা সম্পৃক্ত হতে পেরেছি, এটা খুব আনন্দের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ, তারই একটি মডেল গোলাপী।  

এসময় ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ, ডামুড্যা পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা গোলাপী বলেন, আগে ছেলের সঙ্গে নৌকায় থাকতাম। সাংবাদিকরা আমার কষ্ট দেখে নিউজ করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর দিল। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঘরটিতে থাকবো। আমি খুবই খুশি।

জানা যায়, গোলাপী জীবনের পুরোটা সময় কেটেছে দুর্দশার মধ্যে। তিনি ঢাকায় এক বস্তিতে ছিলেন। তখন স্বামী মারা যান। ছেলে নুরু মিয়া  তাকে জোর করে গ্রামে নিয়ে আসেন। আসার পর থেকে ছেলের বউ তাকে দেখতে পারতেন না। মাঝে মধ্যে গালাগালি করতো। বেশ কয়েকবার এটা নিয়ে দরবার-সালিস হয়। পরে তার ছেলে তাকে নিয়ে থাকা শুরু করে নদীতে একটি নৌকায়। ছেলে এই নৌকা দিয়ে মাছ ধরতো। যা রোজগার হতো, তাই দিয়ে তাদের সংসার চলতো। যদি মাছ না পেত, তাহলে তারা না খেয়ে থাকতেন। 

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা। কিন্তু নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র বাসস্থান।