• বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৮

  • || ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ পেল পদ্মার চরের ৫১৫ পরিবার

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

নদীর বুকে জেগে ওঠা চর। সেই চরে যাতায়াত করাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে বিদ্যুতের আলো পৌঁছাবে- এমনটা ভাবা ছিল অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই বাস্তবে দেখছে পদ্মানদীবেষ্টিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া, মাঝিকান্দি, মুনছুর মোল্লাকান্দি, আলীমুদ্দীন ব্যাপারী কান্দি, আলমখার কান্দি ও মঙ্গলমাঝির কান্দি গ্রামের ৫১৫ পরিবার। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পদ্মা তলদেশ দিয়ে তারা পেল এ বিদ্যুৎ। এজন্য পাইনপাড়া, মাঝিকান্দি, মুনছুর মোল্লাকান্দি, আলীমুদ্দীন ব্যাপারী কান্দি, আলমখার কান্দি, মঙ্গলমাঝির কান্দি গ্রামের মানুষের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার।

আজ শনিবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ৬১ নং রেজিয়া আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জুলফিকার রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুজ্জামান ভুঁইয়া। এসময় জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম নূরুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌকিদার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাল চাঁন মাদবর প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়ন পড়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। ইউনিয়নটি শরীয়তপুর-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চারদিক দিয়ে পদ্মা নদী। মাঝে অসংখ্য চর। ১০ বছর ধরে ওই চরে মানুষ বসবাস শুরু করেছে। চরের মানুষ হারিকেন ও প্রদীপের আলো ছাড়া কখনো বিদ্যুতের আলো পায়নি। কিন্তু এবার পদ্মানদীর তলদেশ দিয়ে সেই চরে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাল চাঁন মাদবর বলেন, আমাদের ইউনিয়নের পদ্মাবেষ্টিত ওই গ্রামগুলো দুর্গম চর। পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে এখানে বিদ্যুৎ দেয়া হবে, তা কখনো ভাবিনি। এখানে বিদ্যুৎ এসেছে এমন খবরে আমরা আনন্দিত।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জুলফিকার রহমান বলেন, পদ্মানদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে শরীয়তপুরের নাওডোবা ইউনিয়নের চরে বিদ্যুৎ দেয়া হল। ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করেছে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। এলাকাটি আমাদের এরিয়ায় পড়েছে। তাই সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হলো। 

এ বিষয়ে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার ঘোষণা বাস্তবায়ন করছি। পদ্মার দুর্গম চর হওয়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়া হলো সেখানে। তাছাড়া পদ্মা বহুমুখী সেতু দৃশ্যমান এখন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। এটাই তার বড় প্রমাণ।