• শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৮

  • || ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

গোসাইরহাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

‘মুজিব বর্ষের প্রতিশ্রুতি, জোরদার করি দুর্যোগ প্রস্তুতি’ এ স্লোগানের মধ্যদিয়ে ১৩ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলা উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবস উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হুসাইন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিখি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান ঢালী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আকতার চৌধুরী। আলোচনা সভায় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান ঢালী বলেন, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যালয়ের উদ্যোগে সারাদেশের ন্যায় আমাদের গোসাইরহাট উপজেলায়ও ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১’ পালিত হচ্ছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে।

তিনি বলেন, সততা এবং দক্ষতার সঙ্গে জনগণের প্রয়োজন মেটানোই সুশাসনের ভিত্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনবান্ধব দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসমূলক কর্মসূচির প্রচলন করেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হুসাইন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টাকে সার্থক করতে হলে দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ে সবার সচেতনতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি প্রণয়নের পথিকৃৎ। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘মুজিব কিল্লা’ নির্মাণ করেন।

তিনি আরো বলেন, পূর্ব প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কারণে আজ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের জনগণকে উন্নয়নের অংশীদার করে তাদের জীবনমানের উন্নতির জন্য সরকার কাজ করছে। প্রতিটি গৃহহীন মানুষকে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। গ্রাম শহরের সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য সম্প্রতি ৫ হাজার ৭৮৫ কিলোমিটার হেরিংবোন বন্ড রাস্তা, ২৬ হাজার ৩৩১টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ২৩০টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও ৩২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। ৪২৩টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ৬৪ জেলায় ৬৬টি জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্র স্থাপন এবং ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।