• মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৮

  • || ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

স্কুল শিক্ষকতা ছেড়ে মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী আলাউদ্দিন

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়ায় মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আলাউদ্দিন মিয়া। তিনি ঢাকাতে একটি স্কুলে  শিক্ষকতা করতেন। শিক্ষকতা ছেড়ে গ্রামে এসে মাল্টা ও লেবু চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি ওই উপজেলায় মাল্টা চাষে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আলাউদ্দিন মিয়া (৫০) উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের মাছুয়াখালি গ্রামের মৃত আলহাজ্ব মো. আমজাদ হোসেন ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তিনি ঢাকার একটি কিন্ডার গার্ডেনে শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চাকরি ছেড়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের বাড়ি এসে কৃষিকাজ করবেন। পরে ইউটিউবে দেখে গ্রামের মাছুয়াখালি এসে মাল্টা ও লেবু বাগান শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরাও তাকে উৎসাহিত করেন । তাই ২০১৮ সালে ১৩০ শতাংশ জমিতে প্রথমে ১২০টি মাল্টা চারা রোপণ করেন। এছাড়া ১৫০টি লেবু গাছ লাগান তিনি। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফলের উপযোগী করে তুলেছেন আলাউদ্দিন। তাঁর বাগানে বর্তমানে প্রতিটি গাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ মাল্টা পেয়ে থাকেন। এই মাল্টা বিক্রি করে তিনি সংসারের খরচ বহন করে আয় করছেন।

আলাউদ্দিন বলেন, অল্প খরচে লাভ বেশি। তাই শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে মাল্টা ও লেবু চাষ করে আজ বছরে ১০ লাখ টাকা আয় করে থাকি।

তিনি বলেন, বাগানে মাতৃগাছ থেকে বাকল দিয়ে ‘গ্রাফটিং’ করে চারা উৎপাদন করা হয়। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে লেবু ও দুই বছরের মধ্যে মাল্টা ফলন শুরু হয়। বর্তমানে আমার বাগান পরিচর্যার জন্য দুইজন লোক কাজ করেন। আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টা-লেবু বাগান করে বেকারত্ব দূর করছেন।

বর্তমানে তার লেবু ও মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে গেছে। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের লেবু ও মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি প্রতি কেজি মাল্টা ১২০ ও ৮০ পিস লেবু ৩০০ টাকা দরে কিনেন ।

স্থানীয় আব্দুল হক সরদার, তাইজুল মাদবর, মহিউদ্দিন মাদবর বলেন, বাজার থেকে মাল্টা কিনে খেয়েছি। তার তুলনায় এখানকার নতুন বাগানে চাষ করা মাল্টার স্বাদ বেশি ভালো এবং মিষ্টি বলে মনে হয়েছে। এছাড়া তার বাগানের লেবু কিনেছি, খাঁটি লেবু।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, আলাউদ্দিনের মাল্টা ও লেবু বাগানের খোঁজ খবর আমি নিয়েছি। তার উৎপাদিত মাল্টা আকারে বড় ও মিষ্টি। তাছাড়া তিনি লেবু চাষেও বেশ সফল। তিনি কৃষি কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। তাঁর দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টা ও লেবু বাগান করে বেকারত্ব দূর করছেন।