• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

 জাজিরায় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২১  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
"জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে, ইঁদুর মারি একসাথে " প্রতিপাদ্যের মাঝ দিয়ে জাজিরা উপজেলায় শুরু হয়েছে মাস ব্যাপি ইদুর নিধন অভিযান।

আজ শনিবার আলোচনা সভা ও  ইদুর মারার মধ্য দিয়ে অভিযানের উদ্বোধন করেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূইয়া। মূল প্রতিপাদ্য বিষয় উপস্থাপন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার সরদার গোলাম মোস্তফা, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মঞ্জুর হোসেন খান,উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুস সোবহান মুন্সি,  বড়গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান লিটু সরদার, সম্মানিত চেয়ারম্যান, পল্লী ও দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ গাজি আকবরসহ  বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার গন,  বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে  আগত কৃষক প্রতিনিধি বৃন্দ, আলোচনাসভায় কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঃ সালাম, উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদার। সভা শেষে কৃষকদের মাঝে ইদুর মারা ফাদ বিতরণ করা হয়।

উদ্বোধন ঘোষণা করে  উপজেলা নির্বাহী অফিসা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, কৃষি আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ আসে কৃষি খাত থেকে। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের একটা বড় অংশ ইঁদুর দ্বারা নষ্ট হয়। ইঁদুর যে পরিমাণ খাবার খায় তার  চেয়ে বেশি কেটেকুটে নষ্ট করে। ক্রমবর্ধমান হারে বর্ধনশীল জনসংখ্যার খাদ্যের প্রয়োজন মেটাতে মাঠে একাধিক ফসলের চাষ হচ্ছে। এক হিসাবে দেখা গেছে প্রতি বছর ইঁদুরের কারণে ১০-১২ লক্ষ টন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়ে থাকে। কারণ ইঁদুর প্রতিদিন তার শরীরের ওজনের ১০ গুণ পর্যন্ত খাবার নষ্ট করতে পারে। এ ছাড়া মলমূত্র ও লোম আমাদের খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে টাইফয়েড, জন্ডিস, চর্মরোগ, কৃমিরোগসহ ৩৩ প্রকারের রোগ ছড়ায়। মারাত্মক প্লেগ রোগের বাহকও এই ইঁঁদুর। ইঁদুর মাঠের ও ঘরের ফসল নষ্ট করা ছাড়াও বৈদ্যুতিক তার কেটে অগ্নিকান্ড ঘটায়, টেলিফোনের তার কেটে টেলিফোন অচল করে দেয়, কম্পিউটারসহ ঘরের কাপড়- চোপড়, কাগজপত্র কেটে নষ্ট করে। এ ছাড়া রাস্তা, বাঁধ, রেললাইনে গর্ত করার ফলে বন্যার সময় পানি ঢুকে রাস্তা, বাঁধ ও রেললাইন ভেঙে যায়। ইঁদুর ঘরে ও মাঠে উভয় স্থানে ক্ষতি করলেও মাঠে এর ক্ষতির পরিমাণ বেশি। এক জরিপ অনুযায়ী আমন ধানের শতকরা ৫-৭ ভাগ, গমের শতকরা ৪-১২ ভাগ, গোল আলুর শতকরা ৫-৭ ভাগ, আনারসে শতকরা ৬ - ৯ ভাগ এবং সেচ নালার ৭-১০ভাগ পানি ইঁদুরের কারণে নষ্ট হয়ে থাকে। এজন্য কৃষকদের ফসলের মাঠে সময়মতো ইঁদুর দমনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রতি বছরই ইঁদুর নিধন কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।

ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালনার ফলে প্রতি বছর ইঁদুরের আক্রমণের হাত থেকে ফসল রক্ষার পরিমাণ বেড়েছে। ইঁদুর নিধন কার্যক্রমকে জোরদার করার ফলে ইঁদুরের আক্রমণের হাত থেকে ফসলের একটা বড় অংশ রক্ষা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইঁদুরের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা পূর্বে যেমন ছিল, বর্তমানেও রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অংশীদারিত্ব। কারণ ইঁদুর দমন পদ্ধতি পোকা ও রোগবালাই দমন পদ্ধতির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ইঁদুরকে একটা সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমাধান সামাজিকভাবেই করতে হবে, যাতে ইঁদুর দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির ধারায় কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।