• সোমবার   ১৬ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত ভেদরগঞ্জের কৃষক 

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২২  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

সরকারি প্রনোদনা কৃষি বিভাগের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ভেদরগঞ্জ উপজেলা ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এই মৌসুমে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৪  হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। অবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমি। আর এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ১৪২ মেট্রিকটন। তবে মোট লক্ষ মাত্রার চেয়ে ১ হাজার মেট্রিকটন বেশি ফসল উৎপাদনের আশা করছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

প্রকৃতির খেয়ালী পনার সাথে দিন রাত পরিশ্রম করে এখন সেই ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে এ উপজেলার কৃষকরা।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও স্থানীয় চাষীদের সাথে সহায়তা করে ধান কাটার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে ৮২৩ জন কৃষান এসে যোগ দিযেছে এ উপজেলায়। এ ছারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬ টি কম্বান্ডহাভেষ্টা ও ধান কাটার কাজে ব্যস্ত রয়েছে।

ছয়গাঁও ইউনিয়নের কৃষক রিপন মৃধা জানান,কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস বোরো ধান। আদিকাল থেকেই এ উপজেলার চাষীরা বোরো ধান চাষ করে আসছে। বোরো ধানের  মাঠে এখন পাঁকা সোনালী বর্নের ধানের শীষ দোল খাচ্ছে।  ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে । পবিত্র ঈদুর ফিতর ও নিম্ন চাপের কারণে মাঠের ধান কাটা বিগ্নিত  হরেও এখন পুর্নদ্দোমে ধান কাটা ঝাড়াই মাড়াই চলছে।

মহিষারের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, জমিতে পাকা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছি আমরা । চাষীরা সবাই এখন দল বেঁধে কাস্তে নিয়ে খেতে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউবা ধান কাটার যন্ত্র (কম্বাইন-হারভেস্টার) দিয়ে, একই সাথে ক্ষেতের ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই করে বস্তাবন্ধি করছেন। এ বছর হটাৎ করে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওযায় এখন জমিতে পানি জমে ধান কাটার কাজ বিগ্নিত করছে। গত ২-৩দিন ধরে চোখ রাঙাচ্ছে কালবৈশাখী ঝড়। 

উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নে চাষী  আবু বক্কর মোড়ল  বলেন, কম খরচে বিষমুক্ত বোরো ধান নিজে চাষে করেছি। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবার অশানুরূ ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও চাহিদা মতো পাওয়ায় আমরা খুশি। এখন সবটুকু ধান শান্তিমতো ঘরে তুলতে পারলেই প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুখে হাসি ফুটবে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসার মামুনুর রশিদ হাসিব জানান,  এ বছর আমাদের উপজেলা উচ্চ ফলনশীল ৬৫০ হেক্টর,উপশী ৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর ও দেশী জাতের ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ভেদরগঞ্জে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবদ করা জাত গুলো হচ্ছে হিরা,টিয়্া ও এস এল-৮। উপশী জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-৯৬,৯২,৮৯,৮১,৭৪.৬৭,৫০,২৯,ও ২৮।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তানবিন হাসান শুভ জানান,ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪৩ হাজার ৯শ’ জন কৃষক রয়েছে। যার মধ্যে কৃষি কার্ড ধারি রয়েছেন ২৫ হাজার ৮ জন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে এই উপজেলার ৩ হাজার ৪ শত জন কৃষককে দেয়া হয়েছে ২ কেজি করে হাইব্রিড ধানের বীজ। ১ হাজার ৫শ’ কৃষককে দেয়া হয় ৫ কেজি করে দেশিয় ধানের বীজ। ৪০৬ জন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষককে দেয়া হয় সার ও কীটনাশক।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে আবাদ করা ফসলের ৩৫% ধান কেটেছেন কৃষকরা। উপজেলার শ্রমিক সংকট মোকাবেলার জন্য এ উপজেলায় কৃষকরা এখন কম্বাইন-হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা ঝাড়াই মাড়াই ও বস্তা ভর্তি করে থাকে। তাছাড়া ধান কাটার একাধিক অত্যাধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলনে কৃষকরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।