• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

বিনামূল্যে ভেদরগঞ্জে ৫০ একর জমির ধান কেটে দিল কৃষি বিভাগ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২২  

শরীয়তপুরপ্রতিনিধিঃ    

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের  ৫০. ৬৪ একর জমির বোরো ধান বিনা মূল্যে কাটা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের পাপরাইল এলাকার সমলয় পদ্ধতিতে বোরোচাষির ৫০. ৬৪ একর জমির পাকা ধান কম্বাইন হার্ভেস্টারের মাধ্যমে বিনা মূল্যে কাটা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা  পাপরাইল এলাকায় এ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ।  উপজেলা কৃষি অফিসার  কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে  বিশেষ অতিথি ছিলেন ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান লিটন মোল্যা,সাংবাদিক  হরুন অর রশীদ, ইউপি সদস্য ইসমাইল পালোয়ান, ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি শাহজাহান সরদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রকৃতিক দূর্যোগের প্রভাব থেকে উপজেলার ধান চাষিরা যাতে ফসল রক্ষা করতে পারে এ জন্য যেসব চাষিদের ধান ৮০ শতাংশ পেঁকেছে তাঁদের ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এ লক্ষ সামনে রেখে ভেদরগঞ্জে  ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫০ একর জমির বোরো ধানের সমলয় চাষ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিনা মূল্যে এ সব ধান কাটাই-মাড়াই ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৪ টন পর্যন্ত ধানের ফলন পেয়েছেন চাষিরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা তাঁদের ধান ভালোভাবে ঘরে তুলতে পারলে বেশ লাভবান হবেন।’ ভেদরগঞ্জ  উপজেলা কৃষি অফিসার  কৃষিবিদ ফাতেমা  ইসলাম বলেন, ভেদরগঞ্জে  বোরো মৌসুমে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সমলয় চাষের ধান ৫০.৬৪ একর জমিতে ৮৭ জন সুবিধাভোগী চাষি আবাদ করেছেন। এ ধান চাষিদের চারা সার কর্তন বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। সমলয় হাইব্রিড এসএল ৮৮ ধানের ফলন হেক্টর প্রতি ৭ টন করে ৩৫০ টন ধান ফলন হতে পারে ৷ বৈরী আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ পূর্বাভাসে সতর্কতা অবলম্বন করতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সমলয়ের সুবিধাভোগী ধান চাষি  ইব্রাহিম মাঝি  বলেন, বৈরি আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মধ্যে কামলা মজুরি দিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে গেলে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা মতো খরচ হতো। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিনা মূল্যে ৮৭ জন কৃষকের ৫০.৬৪ হেক্টর জমির ধান কর্তন কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে অসহায় চাষিদের ধান কর্তনেই সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এ জন্য তিনি চাষিদের পক্ষ থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।