• শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা

ভেদরগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালিত

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২২  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভেদরগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। শোকাবহ দিনটি উপলক্ষে গতকাল রোববার আলোচনা সভা, বঙ্গবন্ধুর  প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল  খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা পরিষদের সামনে  স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মূর্যালে শ্রদ্ধা  নিবেদন করা হয়।
 

ভোর থেকেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল ১১ টায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার  শহীদ আক্কাস শহীদ মহিউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন এর সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন  সরকারি এমএ রেজা কলেজ এর অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন মোড়ল,  বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান রাড়ী, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম, মৎস্য অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম, সখিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান হাওলাদার, ভেদরগঞ্জ  থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বাহালুল খান বাহার।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। শুরু হয় ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চক্রান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা, সংবিধানের চার মূলনীতিতে আঘাত হানাও শুরু হয় ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর। ইতিহাসকে উল্টো পথে হাঁটানোর এই চক্রান্ত চলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। খুনি চক্র তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঘৃণ্য এ কাজগুলো করে।

এসব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত নির্মূল করতে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে দীর্ঘ ২১টি বছর। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ আগের সরকারের ইনডেমনিটি (কালো আইন) অধ্যাদেশ বাতিল এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। তখন থেকে আবারও  প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ হতে শুরু হয় সারা দেশে। নতুন প্রজন্ম জানতে ও বুঝতে শুরু করে তাদের স্বাধীন বাংলাদেশের পেছনে জাতির পিতার সুদীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। দীর্ঘ দিন ধরে পাঠ্যবইয়ে ভুল ইতিহাস জানা থেকে বেরিয়ে আসে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা জানতে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর কথা। মিথ্যা ইতিহাসের মৃত্যুযাত্রার মধ্য দিয়ে পাট্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তি ঘটে বঙ্গবন্ধুর।

এসবের মধ্য দিয়েই ২১ বছর পর মূলত বঙ্গবন্ধু ফিরে পুনরায় আসেন দেশের মানুষের কাছে। সশরীরে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি না থাকলেও মনেপ্রাণে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে শুরু করে বাঙালি।