• শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা

দুই মাস পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২২  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট দুই মাস পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টায় এই ঘাট থেকে লঞ্চ ও স্প্রিড বোট শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে প্রথম দিনে অনেকটা যাত্রী শূন্য বলা চলে।

সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাটের (লঞ্চ) ইজারাদার মোকলেছ মাদবর বলেন, প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে লঞ্চে হাজারো মানুষ পার হতো। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর ঘাটে লঞ্চ চলাচল দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই ঘাটের লঞ্চ, স্পিডবোটসহ অন্যান্য চালক ও কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়ে। পাশাপাশি আমাদের কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল, তাও বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের ইনকামও বন্ধ হয়ে পরে। আজ সকাল পৌনে ৯টায় 'সেতু নেভিগেশন কোং এম.এল' নামের লঞ্চটি ১০জন যাত্রী নিয়ে সাত্তার মাদবর মঙ্গল মাঝির ঘাট থেকে মাওয়া শিমুলিয়া ঘাটে ছেড়ে যায়। ঘাটটি আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমাদেরও আয়ের পথ হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০টি লঞ্চ ও ২৪ টি স্প্রিড বোট প্রতিদিন চলবে এই ঘাট দিয়ে। তবে আগামীকাল সকাল ৭টা থেকে লঞ্চ চলবে প্রতিনিয়ত।

সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়। ২৬ জুন যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেয়া হয়। তবে উদ্বোধনের আগেরদিন (২৪ জুন) থেকে সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাটে ফেরি, লঞ্চ, স্প্রিড বোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। আজ পুনরায় লঞ্চ ও স্প্রিড বোট চালু হওয়ায় মালিক, চালক, যাত্রী, হকার ও ঘাটের ব্যাবসায়ীরা অনেক খুশি।

ঘাটের হকার আল আমিন, কালু হাওলাদারসহ অনেকে বলেন, আমরা এই ঘাট এলাকায় ঝালমুড়ি, আইসক্রিম, পেঁয়াজু, পেয়ারা, শরবতসহ হরেকরকম মুখরোচক খাবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু ঘাটের যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় আমাদের বিক্রিও কমে যায়। আবার ঘাটটি চালু হওয়ায় আমাদের বেচা বিক্রি বাড়বে।

ভ্যানচালক নাজমুল কাজী, রিকশাচালক রাজিব ঘরামী, সিএনজি চালক সোহেল মাঝি, সালাউদ্দিন ছৈয়ালসহ অনেকে বলেন, যানবাহন ও যাত্রীর সমাগম যত বেশি হয় আমাদের আয়ও তত বেশি হয়। ঘাটটি বন্ধ হওয়ায় আয় রোজগার কমে যায়। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। এখন আবার ঘাট চালু হয়েছে আশা করছি রোজগার বাড়বে।

হোটেল মালিক মোহাম্মদ আলী, মো. সোহেল হোসেন বলেন, লঞ্চ ও স্প্রিড বোটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা হোটেল থেকে ভাত, খিচুড়ি, পরোটাসহ অন্যান্য জিনিস কিনে খেতেন। কিন্তু ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছিল। এতে আমাদের ব্যবসাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ঘাটটি চালু হওয়ায় বেচা বিক্রি বাড়বে।

মুদি দোকানি আমিরুল ইসলাম, মিষ্টির দোকানি নিজাম উদ্দিন, সাগর হোসেন, ফল দোকানি সুমন ফকির বলেন, ঘাট বন্ধ হওয়ায় বেচা-কেনা ছিল না। সংসার, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্য খরচ মিটিয়ে কিছুই থাকতো না। ঘাটটি চালু হওয়ায় এখন আয় হবে মনে হচ্ছে।

লঞ্চ যাত্রী জাকির হোসেনসহ অনেকেই বলেন, আমাদের বাড়ি লঞ্চ ঘাটের কাছে। ঘাটটি বন্ধ থাকায় অনেক দুর ঘুরে ঢাকা যেতে হতো। খরচ বেশি হতো, সময় বেশি লাগতো। এখন লঞ্চ দিয়ে ডাকা যাচ্ছি তাতে টাকা সময় ও খরচ দুটোই বাচবে। আজ লঞ্চ দিয়ে ঢাকা যাব আনন্দ লাগছে।

লঞ্চ চালক শহীদ মিস্ত্রী বলেন, ঘাটটিতে লঞ্চ বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পরেছিলাম।  আবার লঞ্চ চালু হওয়ায় বেকারত্ব দুর হয়েছে। ধন্যবাদ ঘাট কর্তৃপক্ষকে।

সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝির ঘাট ইজারাদার নেছার উদ্দিন মাদবর বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রী না থাকায় এই ঘাটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ঘাটের ফেরি, লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলারের চালক ও কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়ে। এছাড়া হকার ও দোকানদারদের বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে পড়ে। আয় না থাকায় অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছিল। পুনরায় ঘাটটি চালু হওয়ায় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান হলো।