• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৪ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

ভেদরগঞ্জে আউশের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২২  

চলতি মৌসুমে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ধানের দাম ভালো পেয়ে খুশি এ উপজেলার কৃষকরা। ফলন ভাল হওয়ায় আগামীতে তারা আরও বেশি জমিতে আউশ চাষ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
জানাগেছে,  চলতি বছরে আউশ ধান আবাদের লক্ষ মাত্রা ছিল ৩ হাজার,৫শ ৩০ হেক্টর জমি। ধানের জমিতে মাছ চাষ ও পাটের আবাদ বৃদ্ধির ফলে এ বছর ভেদরগঞ্জ উপজেলা লক্ষমাত্রার চেয়ে ১শ হেক্টর কম জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। ফলে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার,৪শ,১০ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ২২ হাজার,১শ ৬৫ মেট্রিক টন ধান।

সরকারি প্রনোদনা,বিনামূল্যে সার-বীজ ও কৃষি বিভিাগের নিবিড় তত্বাবধানের আবাদ কম হলেও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২শ মেট্রিক টন। ফলে উৎপাদন হয়েছে ২২ হাজার ৩শ ৬৫ মেট্রিক টন।
 ভেদরগঞ্জ উপজেলা ডিএমখালি ইউনিয়নের কৃষক তালেব উদ্দিন চলতি মৌসুমে ৬৫ শতক জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছিলেন। আবাদ করতে গিয়ে জমি চাষ, বীজ, শ্রমিক ও সার বাবদ খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। জমি থেকে আউশ ধান কাটার পর ফলন হয়েছে ২৫ মণ। প্রতি মণ ধানের এখন বাজার দর এক হাজার থেকে বারো শ’ টাকার মতো। এই হিসাবে খরচ বাদে তিনি ধান থেকে লাভ পাবো ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ধানের খড় আলাদা বিক্রি করে আরও তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা আসবে।
উন্নত জাতের আউশ ধান আবাদ করে আমি ভাল ফলন পেয়েছেন। বাম্পার ফলন এবং ভালো দাম হওয়ায় আগামী বছর আউশ ধানের আবাদ আরও বারাবো।
আর্শিনগর ইউনিয়নে রূপনগর এলাকার কৃষক খুরশেদ জানান,উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় আমার বিনা মূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। কৃষি অফিসার রানাভাই ও আমাদের খোঁজ খবর নেয়ায় অধিকাংশ কৃষকের এবার আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম ভালো পেয়ে আমি বেশ খুশি।

 মহিষার ইউনিয়নের কৃষক জাকির ভূইয়া বলেন আমাদের এলাকায় অধিকাংশ জমিতে মাছের ঘের করায় ধানের আবাদ কমেছে। তবে আগে আউশ ধান ফলন খুব একটা হতো না। কিন্তু বর্তমানে উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ করে আমরা বেশ লাভবান । বিশেষ করে চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের আউশ ব্রি ধান ৮৫ এবং বিনা ধান আবাদ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।
 ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি আউশ ধান মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার ছিল ৩৫৩০হেক্টর জমির বিপরীতে এ উপজেলায় আবাদ হয়েছিল ৩৪১০ হেক্টর জমিতে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাসের দিকে আউশ ধান রোপণ করার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। এ জন্য কৃষকরা এই ধান সময়মতো লাগাতে না পারায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।তা ছারা আমাদের উপজেলায় পাটের আবাদ বৃদ্ধির কারনে আউশের আবাদ কিছুটা কমেছে। মাছের ঘেরে কয়েক বছর পূর্বে জমি গেছে। তবে এবার আউশ ধানের আবাদ কম হলেও উৎপান বৃদ্ধি পেয়ে লক্ষমাত্রার চেয়ে ১শ মেট্রিকও  বাম্পার ফলনে কৃষক লাভেব মধ্যে আছে। তাছারা বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছে কৃষক।আগামীতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করি।