• রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৯ ১৪২৮

  • || ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ব্যবহারে আবারো মরিয়া তারেক

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব রাজনৈতিক দলগুলো এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে এক্ষেত্রে একেবারেই ব্যতিক্রম বিএনপি। দলকে না গুছিয়ে অযৌক্তিক আন্দোলনকে প্রাধান্য দিতে চক্রান্ত শুরু করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বহুবার আন্দোলনে ব্যর্থ এবং সরকারি দলের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বিএনপি। তাই উপায়ন্ত না পেয়ে এবার নির্বাচনের পূর্বে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামকে পাশে চাইছেন লন্ডনে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তারেক রহমান।

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা বললেও নেতাদের মধ্যে ঐক্য না থাকায় বিএনপির আন্দোলন এখন রসিকতায় পরিণত হয়েছে। আন্দোলনের কথা বললেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচনের আগে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দেশে বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলতে চায় তারেক রহমান।

সূত্রটি আরো জানায়, জামায়াত নেতাদের সঙ্গে এ লক্ষ্যে তারেক রহমানের একাধিক বৈঠকও হয়েছে। সরকারকে চাপে ফেলতে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে বিএনপি-জামায়াত।

মহানগর বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম নকি’র এক ঘনিষ্ট সহযোগী জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর নাশকতার পরিকল্পনা করছিল জামায়াতের নেতারা। ধারণা করা হয়, বসুন্ধরা এলাকা থেকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলসহ শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতাকে নাশকতার পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সঙ্গে মিটিংয়ের পরই গ্রেফতার করা হয়। 

এদিকে বিএনপিতে তারেকবিরোধী নেতারা মনে করেন, বিএনপির অধঃপতনের অন্যতম কারণ হচ্ছে জামায়াতের সঙ্গে সখ্যতা। তাই তারা বিভক্ত। কিন্তু জামায়াত সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলেই তারেক রহমান বারবার তাদের শরণাপন্ন হয়। আর এ কারণেই তারেকের নেতৃত্বে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। 

তারা আরো বলেন, যুদ্ধপরাধের দায়ে দলের আমীরসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরও জামায়াতের নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে, এমনটা ভাবা হলেও বাস্তবে তারা আরো সংগঠিত হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন সারির নেতারাই রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির অপরাজনীতি করছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও করছে তারা।

তাদের মতে, জামায়াতের নেতাদের নিশ্চুপতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন নতুন ইসলামপন্থী দলের উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম একটি। 

আর জনগণকে বিভ্রান্ত করতে ইসলমাপন্থী দলগুলো নতুন নতুন ভার্সনে (রূপে) সামনে আসছে। অনেকটা নতুন বোতলে পুরাতন মদ রাখার মতোই। জামায়াতে ইসলামের মতো এসব দলগুলোও সহিংস ও নারকীয় তাণ্ডবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে বিশ্বাসী।