• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৪ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

হজরত মুসা ও হারুনের (আ.) প্রতি আল্লাহর কুদরত

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২২  

আল্লাহ কত মহান। তা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হারুন আলাইহিস সালামের জন্মকালীন সময়ের ইতিহাসই প্রমাণ করে। জটিল ও কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের জন্ম হয়। আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে তাঁরা জটিল ও কঠিন পরিস্তিতিতে উভয়ে বেড়ে ওঠেন। সে সময়ের ঘটনাই তা প্রমাণ করে। সেই সময়ের ঘটনা কী?

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি নেয়ামতপ্রাপ্ত জাতি বনি ইসরাইল। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অনেক নেয়ামতদান করেছেন। কোরআনে এ সব নেয়ামতের কথা উল্লেখ করে মুসলিম জাতিকে একদিকে সুসংবাদ দিয়েছেন, অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ নবির শ্রেষ্ঠ উম্মাত হওয়ার জন্য মন-মানসিকতা তৈরির রসদ যুগিয়েছেন। বিপদে ধৈর্যধারণ করার তাগিদ দিয়েছেন। ফেরাউন যে সময় পুরো বনি ইসরাইল জাতিকে চূড়ান্ত ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন সে সময় আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে এ জাতি রক্ষা পেয়েছিল। এরপরও ফেরাউন সে সময় বনি ইসরাইলের ৯০ হাজার শিশুকে হত্যা করেছিল।

হজরত ওহাব ইবনে মোনাব্বেহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন, আমার কাছে এ বিবরণ পৌঁছেছে যে, ফেরাউন বনি ইসরাইলের ৯০ হাজার শিশুকে হত্যা করেছিল। আর মহামারীর কারণে অনেক বয়স্ক লোকজনের মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় কিবতী সম্প্রদায়ের লোকেরা অস্থির হয়ে উঠে যে, পরিশ্রম ও কাজের সব দায়-দায়িত্ব তাদের উপর অর্পিত হবে। তাই তারা ফেরাউনের কাছে আবেদন করলো যে, বনি ইসরাইলদের শিশু হত্যা বন্ধ করা হোক। কিবতীদের দাবি অনুযায়ী ফেরাউন ফরমান জারি করলো যে, এক বছর পর পর বনি ইসরাইলের শিশুদের হত্যা করা হবে।

আল্লাহ তাআলার কুদরাতে যে বছর শিশু হত্যা বন্ধ ছিল সে বছর জন্ম নিলেন হজরত হারুন আলাইহিস সালাম। আর যে বছর শিশু হত্যা জারি ছিল সে বছর জন্ম নিলেন হজরত মুসা আলাইহিস সালাম।

আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে ফেরাউনের পতন ঘটাতে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। দুনিয়াতে তাঁর তাওহিদের প্রচার, প্রসার এবং বাস্তবায়নের জন্যই সন্তান হত্যার বছর চরম বিপদের মধ্যে হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।

হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্ম ও বেড়ে ওঠাকে বাধা দিতেই ফেরাউন বনি ইসরাইলের ৯০ হাজার শিশুকে হত্যা করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তাআলার কুদরতে মুসা আলাইহিস সালাম ঠিকই নিরাপদে বেড়ে ওঠলেন।
আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের জন্য চরম আতংক হজরত মুসা আলাইহিস সালামকে তার ঘরেই লালন-পালনের ব্যবস্থা করেছিলেন। যা ছিল আল্লাহ তাআলার মহা নেয়ামত এবং কুদরাতের জলন্ত দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনা ও ইতিহাস ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণা ও শিক্ষা। সকল প্রকার কঠিন পিবদাপদেও অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর উপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলাই মানুষের সব বিপদকে সহজ করে দিতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সকল প্রকার বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করার এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।