• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৪ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

জানাজার পর কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়ার উপকারিতা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২২  

জানাজার নামাজে হাজির হওয়া ও কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়ায় রয়েছে অনেক উপকার। কেননা ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া এবং দাফন পর্যন্ত কবরস্থানে অপেক্ষা করা সুন্নত। তবে মৃত ব্যক্তির দাফনের জন্য কবরস্থানে যাওয়া পুরুষদের জন্য বৈধ হলেও নারীদের জন্য তা বৈধ নয়। কিন্তু জানাজার পর দাফন পর্যন্ত কবরস্থানে অবস্থান করার ফজিলত ও উপকারিতা কী?

জানাজার নামাজ ফরজে কিফায়া। ইহা প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব বর্ধন এবং মৃতদের জন্য সুপারিশ। জানাজায় লোক সংখ্যা বেশি হওয়া মুস্তাহাব এবং যতই লোক সংখ্যা বাড়বে ততই উত্তম। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যে মুসলিম মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করে নাই এমন ৪০জন লোক নামাজ আদায় করবে, তবে মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সুপারিশ আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন।’ (মুসলিম)

শুধু জানাজার নামাজ পড়লে পাওয়া যায় এক কিরাত সওয়াব। আর জানাজা পরে দাফন পর্যন্ত কবরস্থানে অপেক্ষা করলে তার জন্য রয়েছে দুই কিরাত সওয়াব। এক কিরাতের পরিমাপ হলো- ওহুদ পাহাড়েরর সমান। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত মুসলিম ব্যক্তির জানাজায় ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় শরিক হয় এবং জানাজা ও দাফন পর্যন্ত (কবরস্থানে) থাকে, সে দুই কিরাত নেকি পাবে। প্রতি কিরাত হচ্ছে ওহুদ পাহাড়ের সমান। আর জানাজা পড়ে (কবরস্থানে না গিয়ে) দাফনের আগেই ফিরে গেলে সে পাবে এক কিরাত নেকি। (বুখারি, মুসলিম)

জানাজায় অংশগ্রহণ করা প্রতিবেশীর হক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একজন মুমিনের প্রতি অপর মুমিনের ছয়টি হক রয়েছে। ছয়টি হকের মধ্যে একটি হলো- যদি কারো কোনো প্রতিবেশি মারা যায়, তবে তার জানাজায় উপস্থিত হওয়া।

যদিও জানাজায় উপস্থিত হওয়া প্রতিবেশির পরস্পরের অধিকার। কিন্তু এ অধিকার আদায়ে কেউ জানাজায় অংশগ্রহণ করলে তাঁর জন্য রয়েছে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা। জানাজায় উপস্থিত হওয়ার ফলে মানুষ যখন মৃতব্যক্তিকে দেখবে, তখন দুনিয়ার অন্যায় ও মন্দ কাজের চিন্তা আর ওই ব্যক্তি মাঝে কাজ করবে না। তাছাড়া সে পাবে বিপুল পরিমাণ সওয়াব।

সুতরাং সময় এবং সুযোগ থাকলে জানাজার নামাজের পর মৃতব্যক্তিকে দাফন করা পর্যন্ত কবরস্থানে অপেক্ষা করে দুই কিরাত নেকি অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই উত্তম কাজ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুই কিরাত নেকি পাওয়ার জন্য জানাজার নামাজ পড়ে লাশ দাফন পর্যন্ত কবরস্থানে অবস্থান করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।