• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

জাতীয় দলে খেলতে চান শিশু সাদিদ, স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়ের

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২১  

মাত্র ৬ বছর বয়সে ক্রিকেট দুনিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে বরিশালের ক্ষুদে ক্রিকেটার আসাদুজ্জামান সাদিদ। তার যাদুকরি লেগ স্পিন বোলিং নজরে পড়েছে ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারের। ক্ষুদে সাদিদের বোলিং নৈপুণ্য নিজের ভেরিফায়েড টুইটারে পোস্ট করেছেন শচীন।

টেন্ডুলকারের ওই পেজে ক্ষুদে ক্রিকেটার সাদিদের বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে আশাব্যাঞ্জক কমেন্টস করেছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার। এ কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে না খেলেও রাতারাতি বিখ্যাত বনে গেছেন প্রথম শ্রেণির ছাত্র সাদিদ। এখন তার বাড়িতে ভীড় করছে গণমাধ্যম। তাকে দেখতে আসছেন দূরদূরান্তের মানুষ। বড় হয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চান তিনি। সাদিদের এই নৈপুণ্যে খুশি তার পরিবার। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান তারা। 

সাদিদ থাকেন বরিশাল নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাবাজ এলাকায় নানা অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পোস্ট মাস্টার মো. লতিফুর রহমানের বাড়িতে। বাড়ি সংলগ্ন উলালঘুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র তিনি। তার মা গৃহীনি। বাবা থেকেও নেই। 

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সাদিদের জন্ম। এর মাস ছয়েক পর তার মা জুম্মাতুন্নেছার সাথে বাবা সৌদি প্রবাসী ঝালকাঠীর মনিরুজ্জামান সুমনের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নানা বাড়িতেই বেড়ে উঠছে সাদিদ। তার এক মামা সিরাজুল ইসলাম শুভ’র স্বপ্ন ছিল বড় ক্রিকেটার হয়ে জাতীয় দলে খেলা। কিন্তু আর্থ-সামাজিক নানা কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি তার। এ কারণে নিজের স্বপ্নের জাল বুনছেন ভাগ্নে সাদিদকে ঘিরে। মাত্র ৩ বছর বয়স থেকেই ক্রিকেটের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ সাদিদের। করোনাকালে বদ্ধজীবনে নিজ বাড়ির আঙিনায় নিজের ভাগ্নেকে ঝালিয়ে নেন শুভ। একই রিস্টে লেগ স্পিন এবং গুগলি বল করে ব্যাটসম্যানদের একের পর এক বোকা বানাচ্ছেন ক্ষুদে সাদিদ। ব্যাটিংও করেন মারকুটে। 

সিরাজুল ইসলাম শুভ বলেন, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে না পাড়ার আক্ষেপ থেকেই ভাগ্নেকে ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করছেন তিনি। গত ৩ বছরে তার যাদুকরী স্পিন বোলিং নজর কেড়েছে সবার। মূলত সাদিদের বোলিং-ব্যাটিংয়ের ভুল-ত্রুটি শুধরে দেয়ার জন্য তার বোলিং-ব্যাটিংয়ের কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করেন শুভ। সেগুলো ভাগ্নেকে দেখিয়ে ভুল শুধরে দেয়ার পর সেগুলো নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি। 

এই পোস্টে মাসখানেক আগে দৃষ্টি পড়ে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসের। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষুদে সাদিদের বোলিংয়ের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন। এর পর বাকীটা ইতিহাস। শাহরিয়ার নাফিসের সামাজিক মাধ্যম থেকে সাদিদের বোলিং জাদু দেখে মুগ্ধ হন ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকার। 

নিজের ভেরিফায়েড টুইটারে সাদিদের বোলিংয়ের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘ওয়াও। রিসিভড্ দিস ভিডিও ফ্রম এ ফ্রেন্ড। ইটস ব্রিলিয়ান্ট। দি লাভ এন্ড পেশেনস দিস লিটল বয় হ্যাজ ফর দি গেম ইজ এভিডেন্ট’। এতে নানা আশাব্যাঞ্জক মন্তব্য করেছেন রশীদ খানসহ বিশ্বের আরও কয়েকজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার। মূলত শচীনের টুইটের পরই সাদিদের বোলিং নৈপুণ্য নিয়ে হৈ-চৈ শুরু হয় ক্রিকেট দুনিয়ায়। 

সাদিদের খালাতো বোন মোসাম্মত অনামিকা বলেন, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে মনযোগ সাদিদের। আফগানিস্তানের স্পিনার রশীদ খানের বোলিং অনুসরণ করে। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলীকে খুব পছন্দ করে। সাকিব আল হাসানকে আদর্শ মানে। সাকিবের মতো অলরাউন্ডার হতে চায় সাদিদ। সে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যাক এবং আগামীতে জাতীয় দলের একজন নিয়মিত খেলোয়ার হোক সেটাই প্রত্যাশা করছেন তার পরিবার। 

সাদিদের খেলার সাথী ও তার বোলিং মোকাবেলা করা কাজী আরাফাত বলেন, ওর হাতে সব সময় একটা ক্রিকেট বল থাকে। ওর মামা না থাকলেও একা একা বোলিং প্র্যাকটিস করে সে। প্র্যাকটিস না করতে পারলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। ওর বোলিংয়ে জাদু আছে। ওর মতো লেগ স্পীনার জাতীয় দলে দরকার আছে বলে মনে করেন তারা। 

আলোচিত ক্ষুদে ক্রিকেটার আসাদুজ্জামান সাদিদ বলেন, রিরাট কোহলী, ধোনি, রোহিত শর্মা, ম্যাক্সওয়েল ও এবিডি ভিলিয়ার্স সহ মারকুটে ব্যাটসম্যানদের খেলা টিভিতে দেখে তাদের খেলা রপ্ত করেছেন তিনি। শচীন টেন্ডুলকার তার বোলিং দেখে প্রসংশা করায় সারাবিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন বলে খুব ভালো লাগছে তার। তার বোলিং দেখায় এবং এতে কমেন্টস করায় শচীন ও রশীদ খানসহ অন্যান্যদের ধন্যবাদ জানান ক্ষুদে সাদিদ। চেয়েছেন তাদের দোয়াও। আগামী দিনে জাতীয় দলে খেলতে চান তিনি। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করতে চান বরিশালের ক্ষুদে বোলিং জাদুকর সাদিদ। 

এদিকে, ক্ষুদে সাদিদের বোলিং-ব্যাটিং নেট দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করায় তার বাড়ি ছুটে যান বরিশালের ক্রীড়া সংগঠকরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত পরিচালক আলমগীর খান আলোও ফোন দিয়েছিলেন সাদিদের পরিবারে। 

বিসিবির কাউন্সিলর ও বরিশাল জেলা ক্রিকেট কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ গাঙ্গুলী বলেন, বিসিবির পরিচালক আলমগীর খানের নির্দেশে ওই বাড়ি গিয়ে ক্ষুদে সাদিদ সহ তার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন তিনি। সাদিদের বেড়ে ওঠা কিংবা তার ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক। তারা তার সাফল্য কামনা করেন।

সাদিদের মামা সিরাজুল ইসলাম শুভ জানান, উপযুক্ত বয়স হলে তাকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি করতে চান। এছাড়াও সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট একাডেমীতে ভর্তি করতে চান তাকে।