• বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা

আগৈলঝাড়ায় আশ্রয়ণের ১৪৭টি ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

 বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ভুমি ও গৃহহীন ১শ ৪৭টি পরিবার আশ্রয়নের ঘর পেয়ে তাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। উপজেলার কালুপাড়া আশ্রয়নের বসবাসকারী ইউনুস মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের কারনে আজ আমরা গৃহ ও ভুমিহীনরা শান্তিতে বসবাস করতে পারছি। সরকার আমাদের ঘর ও জায়গা দিয়েছে। কেউ আমাদের এখন আর ভুমি ও গৃহহীন বলতে পারবে না। পরিবারের চার সদস্য নিয়ে বসবাস করছি। এখন আর ঝড় বৃষ্টিতে ভিচতে হবে না। এই আশ্রয়নে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীঘায়ু কামনা করছি। এই সরকার আগামীতে যাতে ক্ষমতায় আসতে পারে সেই জন্য দোয়া করি।

উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ভুমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ২শত ২২টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১শত ৪৭টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ওই সকল ঘরে বসবাসকারীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। বাকী চতুর্থ পর্যায়ের ৭৫টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে। মুজিবশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার স্বপ্নের নতুন ঠিকানা দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহ পেয়ে আনন্দে এখন তারা আত্মহারা। উপকারভোগীরা হচ্ছেন দুস্থ, অসহায় ও বিধবা ও উপার্জনে অক্ষম এবং পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন ব্যক্তি। এছাড়া পরিবারগুলো গভীর নলকূপ, বিদ্যুৎ, রাস্তাসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। দুই শতাংশ জমিতে পাকা সেমি দুকক্ষ বিশিষ্ট ঘর স্বামী ও স্ত্রীকে যৌথভাবে দলিল করে দেওয়া হয়। উপজেলা কালুপাড়া গ্রামে গড়ে উঠেছে আশ্রয়ন প্রকল্পে ২১টি ঘর। এখানে ২১টি পরিবার বসবাস করছেন।

বসবাসকারী হাসনা সেনা, ইমাম হোসেন ও আসমা বেগমসহ সকলের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। এখন আর তারা দেশের ভুমি বা গৃহহীন নয়। উপজেলার রাজিহার, বাগধা, রত্নপুর, গৈলা ও বাকাল  ইউনিয়নে ১শত ৪৭টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ ঘর পেয়েছেন।

বাকাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপুল দাস বলেন, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন-গৃহহীনদের জমিসহ ঘর দেয়া এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। আমার ইউনিয়নে ২১টি উপকারভোগী পরিবারকে এরই মধ্যে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলার সকল ইউনিয়নেই এভাবে ঘর দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাখাওয়াত হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তাদের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

ঘর নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। মানসম্পন্ন ঘর তৈরী করতে সর্বদা খেয়াল রাখছি। এই কাজ বাস্তবায়নকারী কমিটির সকলকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

ঘর নির্মাণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর প্রদানের উদ্যোগ নেন। তারই অংশ হিসেবে আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১শত ৪৭টি পরিবারের মাঝে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ঘর ভুমি-গৃহহীনদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ের ৭৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আশ্রয়ন ঘরে বসবাসরত সকলকে সরকার থেকে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।