• শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা

৫৮০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করেন কালু কসাই

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৩  

দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম চড়া। বগুড়া শহরের বিভিন্ন বাজারেও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় বিক্রি হয়। গ্রামের হাটবাজারে তা ৬৮০ টাকা। তবে ৫৮০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন জেলাটির এক কসাই।

আলোচিত কসাইয়ের নাম নজরুল ইসলাম ওরফে কালু কসাই। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী মোড়ে তার মাংসের দোকান। তিনি বিগত এক বছর ধরে বাজারের চেয়ে কম দামে মাংস বিক্রি করছেন। বিষয়টি লোকমুখে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এখন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় লেগে থাকছে তার দোকানে।

শিমুলতলী মোড়ের অবস্থান বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। বাগবাড়ী সড়কের এই মোড় এখন কালু কসাইয়ের ‘গোশত ঘর’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তার দোকান থেকে মাংস কিনতে শহর থেকে ৩০ টাকা অটোরিকশা ভাড়ায় ছুটছেন ক্রেতারা।  

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে শিমুলতলী মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম ওরফে কালু কসাইয়ের দোকানে ভিড়। স্থানীয়দের চেয়ে মাংস কেনার জন্য অন্য এলাকার মানুষ বেশি এসেছে। সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট থেকে আসা মনজুরুল ইসলাম বলেন, বালুয়াহাটে প্রতি কেজি মাংস ৬৮০ টাকা। ফেসবুকে দেখেছি, এই মোড়ে মাংস ৫৮০ টাকা কেজি। এক কেজি মাংসে ১০০ টাকা কম। এ কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। ১০০ টাকার তেল খরচ হলেও ৩০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, বাইরের এত মানুষ প্রতিদিন মাংস কিনতে আসেন যে এলাকার মানুষ কালুর দোকান থেকে মাংস নিতে পারে না। দূর-দূরান্তের মানুষ এলাকার অতিথি, এ জন্য তাদের আগে মাংস দিয়ে বিদায় করতে হয়। এলাকার যারা মাংস নিতে চায় তারা আগেই কালুকে রাখেন, পরে এসে মাংস নিয়ে যান।

নজরুল ইসলাম কালু জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি মাংস বিক্রির পেশায় জড়িত। এক বছর আগেও তিনি বাগবাড়ী বাজারে মাংস বিক্রি করতেন। কিন্তু গত বছর সেখানে টোল বাড়ানো হয়। টোল বাড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তখনই তিনি হাটে দোকান না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বাড়ির পাশে শিমুলতলী মোড়ে দোকান বসান।

তিনি জানান, ওই সময় হাটে মাংস বিক্রি হচ্ছিল ৫৫০ টাকা কেজি। তিনি তখন ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু করেন। তখন শহরে দাম ছিল ৬০০ টাকা কেজি। এই কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার দোকানে ক্রেতা বাড়তে থাকে।

নজরুল ইসলাম কালুর বড় ছেলে আবু হাসান মাঝেমধ্যে বাবাকে দোকান সামলাতে সহায়তা করে থাকেন, তিনি এবার স্নাতকে (সম্মান) পড়ছেন। আর ছোট ছেলে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।  

কালু জানান, আগে হাটে দোকান দিয়ে দিনে একটা গরুও বিক্রি হতো না। এখন সপ্তাহে অন্তত ২৫টা গরু বিক্রি হচ্ছে। চারজন কর্মচারীর মজুরি বাদ দিয়ে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা টিকলেও মাসে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকে।  

তিনি বলেন, হাটের টোল যেখানে কম, সেসব এলাকার কসাইরা চাইলেই কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারেন। এতে লাভ কিছুটা কম হলেও মানুষের উপকার হবে।