• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো: প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হিসাব করে চলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া শিক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৪ কর্মী: প্রধানমন্ত্রী পাতাল রেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিশ্বাস করি, তারা যদি চায় আমরা থাকবো: প্রধানমন্ত্রী সাগরের পানি থেকে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আলোচনা চলছে

আব্দুর রহমানকে দোকান সামগ্রী দিলেন জেলা প্রশাসক

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২২  

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : তিন বছর আগে চোখে ছানি পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আব্দুর রহমানের বাবা সিরাজ মুন্সি। তিনি দৃষ্টিহীন হওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। এ অবস্থায় পরিবারের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নেয় কিশোর আব্দুর রহমান। স্কুলের বই-খাতা আলমারিতে রেখে ভ্যানের হ্যান্ডেল হাতে ধরেছে সে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী এই কিশোর। আব্দুর রহমান ভ্যানে করে চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে।

অসহায় আব্দুর রহমানের পাশে দাড়িয়েছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান। তাই অসহায় আব্দুর রহমানের পরিবারকে সচ্ছল করতে চায়ের দোকান সামগ্রী তুলে দেন।

ডিসি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় অসহায়ের পাশে দাঁড়ান। তারই অংশ হিসেবে আব্দুর রহমানকে চায়ের দোকান করার জন্য দোকান সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

এরমধ্যে রয়েছে একটি ডাবল চুলা, একটি গ্যাস সিলিন্ডার, দুটি কেটলি, একটি সসপ্যান, একটি বালতি, একটি বল, একটি ছাঁকনি, এক ডজন কাপ, দশ কেজি চিনি, পাঁচ কেজি চা পাতাসহ দোকানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী।  

আব্দুর রহমান (১৩) বলে, আমি চায়ের দোকানের জন্য সব পেয়েছি। দোকান করে যা আয় হবে তা দিয়ে আমার সংসার চলে যাবে ইন্সআল্লাহ্। সে বলে, আমার বাবা চোখে দেখেন না, চিকিৎসা দরকার। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই।

উল্লেখ্য, ভ্যান চালিয়ে অন্য ১০টি পরিবারের মতো ভালোই চলে যাচ্ছিল শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নাওডোবা গ্রামের সিরাজ মুন্সি'র। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে হঠাৎ তার চোখে ছানি পড়ে তাঁর। কিন্তু চিকিৎসা না করার কারণে ধীরে ধীরে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তখন সিরাজের একমাত্র ছেলে আব্দুর রহমানের বয়স ছিল ১১ বছর। তখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সে।

সিরাজ মুন্সি দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় আব্দুর রহমান পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের হাল ধরে। ছয় মাস ভ্যান চালায়। তবে যাত্রী বহন করতে কষ্ট হওয়ায় ভ্যানে করে চা, পানি ও চকলেট বিক্রি করে এই কিশোর। সারাদিন বিক্রি করলে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয়। এ টাকা দিয়েই কোনোরকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের পাঁচজনের সংসার।