• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:

পদ্মা পাড়ে ঝলমলে আয়োজনের মহাযজ্ঞ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

আরমাত্র দুইদিন পরই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যে দিনের অপেক্ষায় ছিলেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার শনিবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রমত্তা পদ্মার দুইপাড়ে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বর্ণীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। মাওয়া প্রান্তে হবে সুধী সমাবেশ আর মাদারীপুর প্রান্তে হবে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। এতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে শুধু তাই নয়, কেরানীগঞ্জ থেকে শুরু করে মাওয়া এবং ওপারের শরিয়তপুর-মাদারীপুরের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের রঙবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন জানান দিচ্ছে শনিবারের প্রস্তুতির।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে শুরু করে আশপাশের সংযোগ সড়ক কোথাও বাদ নেই যেখানে পড়েনি ব্যানার-ফেস্টুনের ছোঁয়া।

শুধু রাজনীতিবিদই নয়, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে নিজেদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন এমন প্রচারণা চালিয়ে।

তবে সেতু কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে বর্ণিল আয়োজন করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আশপাশে। মাওয়া ফেরিঘাটের সড়কের আশপাশে খানিক বাদে বাদে ফেস্টুন টানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে পদ্মা পাড়ে যেখানে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে তার আশপাশে বঙ্গবন্ধু, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতু মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ছবি দিয়ে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড, ফেস্টুন টানানো হয়েছে।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে; যদিও শুরুতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল এই সেতুতে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করলে তাদের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে দেশের টাকায় এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৫ সালে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই সেতুর পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞ শুরু হলেও এর পরিকল্পনা তারও আগের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এসব ব্যানার ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি সবগুলোতে পদ্মা সেতুর ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করার যে সাহস প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন সেজন্য তার সাহসিকতার প্রশংসা করে নানা স্লোগান উল্লেখ করা হয়েছে ফেস্টুনে।

পথে পথে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে দেখা গেছে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের অনেকগুলো ব্যানার ফেস্টুন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলম সরোয়ার কবিরের ফেস্টুন দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জে প্রবেশ পথ থেকে।

পদ্মা সেতুর ছবি দিয়ে ‘দেশের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি’ স্লোগানের বিলবোর্ড দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের সৌজন্য।

আবাসন প্রতিষ্ঠান আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো দেখা গেছে সড়কের দুই পাশে।

পদ্মা সেতুর যত কাছাকাছি জায়গা ততই এমন সাজসজ্জা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এ্যামিলির ছবি জুড়ে দিয়ে লোহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মাওয়া ঘাটের আশপাশে বড় বড় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন।

এদিকে ব্যানার-ফেস্টুনের বাইরেও শেষ মুহূর্তে কাজের মধ্যে সড়কের ডিভাইডারে নানা প্রতীক ও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে পদ্মা পাড়ে।

শনিবারের আগেই সেতুতে অ্যালুমিনিয়ামের রেলিং বসাসো শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।

করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে লম্বা সময় নিয়ে আকাশ ও সমুদ্র পথে দুবাই ও যুক্তরাজ্য থেকে রেলিং আনা হয়েছে বলে জানা প্রকল্প পরিচালক।

গণমাধ্যমকে সেতুর প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, বিশেষভাবে তৈরি করা এই অ্যালুমিনিয়ামের শনাট দিয়ে ফিটিং করা ১৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই রেলিং স্থাপন করা হচ্ছে সেতুর দুই পাড়ের প্যারাপেট ওয়ালের উপরে। আশা করছি ২৪ তারিখ বিকালের মধ্যেও সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ইতোমধ্যে সেতু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।

এদিকে, টোল আদায়ে যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে সেসব ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করতে পদ্মা সেতুতে টোল দিয়ে গাড়ি পারাপারে মহড়াও সেরে নিয়েছে সেতু বিভাগ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, যান চলাচল মনিটরিং করতে সেতু এলাকার পুরোটা জুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

এদিকে সুধী সমাবেশের প্যান্ডেলের কাজ মোটামুটি শেষ করেছে আয়োজকরা। এখন এসিসহ নানা সরঞ্জাম লাগানো হচ্ছে পুরো এলাকাজুড়ে।