• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো: প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হিসাব করে চলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া শিক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৪ কর্মী: প্রধানমন্ত্রী পাতাল রেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিশ্বাস করি, তারা যদি চায় আমরা থাকবো: প্রধানমন্ত্রী সাগরের পানি থেকে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আলোচনা চলছে

পঞ্চগড় হানাদারমুক্ত দিবস আজ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২২  

আজ ২৯ নভেম্বর। ঐতিহাসিক এ দিনে হানাদারমুক্ত হয়েছিল পঞ্চগড়। ১৯৭১ সালের এ দিনে বীর মুক্তিসেনারা ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহায়তায় এ জেলাকে পাকসেনাদের কবল থেকেও দখলমুক্ত করতে সমর্থ হয়। পঞ্চগড়ের মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা জ্বালিয়ে ওড়ানো হয় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা।

তাই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলায় হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধারা গত বেশ কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালন করছেন। পঞ্চগড় হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২৮ নভেম্বর) রাতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের নামে পাকিস্তানি সেনারা যখন এ দেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, পঞ্চগড় তখনও ছিল শত্রু মুক্ত। ১৭ এপ্রিল পাক সেনারা পঞ্চগড় প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদরে নির্মমতায় স্থানীয় অসংখ্য মানুষ সেদিন প্রাণ হারায়। অনেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আশ্রয় শিবিরে গিয়ে দেশকে স্বাধীনতার সূর্য এনে দিতে প্রশিক্ষণ নেয়।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত টানা যুদ্ধে বিপর্যস্ত ও গৃহহীন হয়ে পড়ে পঞ্চগড়ের লাখো মানুষ। পাক বাহিনীর পাশবিক অত্যাচার ও নির্যাতনে প্রাণ হারা অনেক। ২৯ নভেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার ক্ষতকে শক্তিতে রূপান্তর করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, গেরিলা বাহিনী ও মিত্রবাহিনী ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়। অমরখানায় ব্রিজ ডিনামাইট ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলেন মুক্তিযোদ্ধারা। ফলে জেলার চার থানা দখলে রাখতে পারলেও তেঁতুলিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাক বাহিনীর কাছ থেকে।

স্বাধীনের বীরদের কারণে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তেঁতুলিয়া ছিল হানাদার মুক্ত। তাদের কারণেই বশ্যতা স্বীকার করে পাকিস্তানি নরপিশাচরা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরের ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড়কে মুক্ত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতেই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে অমরখানা ব্রিজ ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম আমরা। তাই মুক্তিযুদ্ধকালীন তেঁতুলিয়ায় হানাদার বাহিনী প্রবেশ করতে পারেনি। তেঁতুলিয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের বিভিন্ন শলাপরামর্শ করতেন। যা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক ছিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল ইসলামও এ কথায় মত দেন। তিনি বলেন, একাত্তরের ২৮ নভেম্বর রাতে পঞ্চগড় চিনিকল এলাকায় পাকসেনাদের ঘাটি দখল করতে যুদ্ধ শুরু করি আমরা। সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী প্রবল আক্রমণ গড়ে তোলে পঞ্চগড় চিনিকল এলাকায়। অবশেষে মুক্তিবাহিনীদের সাথে না টিকতে পেরে খান সেনারা পালিয়ে যেতে থাকে। সেই সময়টিকে আমরা তরুণদের জানাতে এবং পালন করতে বেশ কয়েক বছর থেকে এই দিনটিকে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করে আসছি।

পঞ্চগড় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইখুল ইসলাম বলেন, ২৯ নভেম্বর বাংলার দামাল ছেলেদের নিয়ে আমরা এই পঞ্চগড়কে হানাদার মুক্ত করেছি। যুগ যুগ ধরে আমাদের প্রজন্ম, আগামী ও আগত প্রজন্মকে জানাতে ২৯ নভেম্বর আমরা পঞ্চগড় হানাদারমুক্ত দিবস পালন করি।