• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২১ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হলো: প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী সবাইকে হিসাব করে চলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কৃষি উন্নয়নের বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া শিক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৪ কর্মী: প্রধানমন্ত্রী পাতাল রেল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিশ্বাস করি, তারা যদি চায় আমরা থাকবো: প্রধানমন্ত্রী সাগরের পানি থেকে হাইড্রোজেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আলোচনা চলছে

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত প্রাণ ঝরেছে হিসাব নেই

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২২  

দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত তাজা প্রাণ ঝরে পড়েছে তার হিসাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসেই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লড়াই-সংগ্রাম শুরু করি। দেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেই। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আন্দোলনে অংশ নিয়েও বহু মানুষ প্রাণ বিসর্জন দেয় এবং স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে।

৩ ডিসেম্বর নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারকগ্রন্থ ‘সাহসিক’ প্রকাশ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘সাহসিক’ প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়ায় শহীদ রাজু স্মৃতি সংসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিবাদন ও ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর স্বৈরশাসকরা তাদের বুট এবং বেয়নেটের খোঁচায় এদেশের মানুষের ভাগ্য লিখতে শুরু করে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে। এভাবে তারা সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার কেড়ে নেয়। স্বৈরশাসকরা আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করে। আমি এবং আমার বোন বিদেশে অবস্থান করায় আমাদেরকে হত্যা করতে পারেনি। দীর্ঘ ছয় বছর আমাদের রিফিউজি হিসেবে বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তানি শোষকদের জেল-জুলুম-নির্যাতন তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ থেকে সরাতে পারেনি। তার অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় সৃষ্টি করেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন।

তিনি বলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান পাটোয়ারী রাজুও এ আন্দোলনে শহীদ হন। এসময় তিনি শহীদ রাজুসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজু স্মরণে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সাহসিক’ দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দলিল হিসেবে যুগে যুগে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান পাটোয়ারী রাজুর ৩২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।