• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

  • || ১২ শা'বান ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন পর্যন্ত সতর্ক এবং মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩  

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে যে কোনো ধরনের নাশকতা রুখে দিতে হবে। এর জন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’ দলীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দলকে নির্বাচনমুখী করার তাগিদ :গতকাল গণভবনে যৌথ সভায় জাতীয় কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের নেতারা বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। তারা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলকে নির্বাচনমুখী করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এখনই দলকে নিয়ে সর্বাত্মক নির্বাচনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সারা দেশের মানুষকেও নির্বাচনমুখী করতে হবে। মাঠ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সারা দেশে দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল দ্রুত নিরসনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে নেতারা আরো বলেন, দলের মধ্যকার বিরোধ দ্রুত সময়ে নিরসন করা না গেলে নির্বাচনি প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের অপকর্মগুলোও তুলে ধরতে হবে। তাদের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। তারা বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিজ নিজ এলাকায় কেমন হচ্ছে, সেগুলো মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রচার ভালোভাবে করতে হবে। এর মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এ সময় বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করার দুর্লভ সৌভাগ্যের কথাও তুলে ধরেন অনেকেই।  

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন নির্বাচনটাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। নেতাদের যার যার এলাকায় গিয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের অতীতের অপকর্ম ও দুঃশাসনের বিষয়ে মানুষকে বলতে হবে। আন্দোলনের নামে তাদের আগুন-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও মানুষকে সচেতন করতে হবে। দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের জাতীয় কমিটি কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা আছেন, তারা নিজ নিজ এলাকার জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখবেন। দলের সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যৌথভাবে কাজ করবেন। কোনো সমস্যা থাকলে আমাকেও অবহিত করবেন।’

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পরামর্শও দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি বলেন, দলের যাঁরা প্রবীণ নেতা আছেন, তারা দলের অনেক ইতিহাস, ঘটনাপ্রবাহ ও উত্থান-পতনের সঙ্গী। তাদের অভিজ্ঞতা দলকে আরো সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন।      

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় এক বছর। তবে এখন থেকেই ভোটের হাওয়া বইছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিরোধী শিবিরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের মাঠে নেমে পড়েছে। সারা বছর রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও নির্বাচনি বছরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোও। বিএনপির সঙ্গে যুগপত্ভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রয়েছে সাতদলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। সব দলই অভিন্ন লক্ষ্যে রাজনীতির মাঠে নেমেছে। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি ও বিএনপির দেওয়া ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নে ঐকমত্য পোষণ করে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে। মাঠের রাজনীতিতেই আওয়ামী লীগকে পর্যুদস্ত করতে চায় তারা। এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য মাঠে সর্তক পাহারায় অবস্থান নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিরোধী শিবিরের কর্মসূচিগুলোতে বাধা না দিয়েও আন্দোলনের মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে দলটি। এছাড়া চলতি বছরে সরকারের উন্নয়ন-অর্জন দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দলের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করবেন আওয়ামী লীগের নেতারা। আগামী ১৬ জানুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের দিনও জনগণের জানমাল রক্ষায় রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবে আওয়ামী লীগ। ঐ দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এই আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

গতকাল গণভবনে বৈঠক শেষে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইদানীং আমরা লক্ষ করছি, হঠাৎ করে বাস পোড়ানো হচ্ছে, যেটা ফরিদপুরে ঘটেছে। সেখানে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে। সেখানকার সবাই একবাক্যে বলেছে, পুলিশ আক্রমণকারী নয়, তারা আক্রান্ত। তিনি বলেন, বিএনপির উদ্দেশ্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাবে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এর মধ্য দিয়ে তারা সরকারপতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। তারা আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে জনজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনবে, রাস্তা অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে—এই অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমরা ক্ষমতায় রয়েছি, তাই এ দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের দেখতে হবে। যে কোনো ধরনের নাশকতা করে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে চাইলে প্রতিরোধ করা হবে, প্রতিহত করা হবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার জন নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে যে কেউ আন্দোলন করতে পারে। তবে আন্দোলনের নামে কেউ যদি মানুষের ওপর আঘাত করে, গানপাউডার ও পেট্রোল বোমা মেরে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করব। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাই না, হামলা করতে চাই না। কেউ আঘাত করলে, হামলা করলে আমরা প্রতিরোধ করব।’ নির্বাচনি বছরে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ ও মানুষের কল্যাণে যেসব কাজ করেছে তা জনগণের কাছে তুলে ধরা। যেমন—পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, সীমান্তচুক্তি, সমুদ্রবিজয়, কর্ণফুলী টানেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ আইটি খাতে বিশ্বের তৃতীয় অবস্থান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র মানুষকে জানানো। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, তা বাস্তবায়নে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। আওয়ামী লীগের পক্ষে, নৌকার পক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা। পাশাপাশি, বিএনপির আমলে দেশের মানুষকে বিদ্যুৎ না দিয়ে তারা লুটপাট করেছে, কৃষককে সার দিতে না পেরে গুলি করে হত্যা করেছে। দেশে খুনের রাজনীতি শুরু করেছিল, দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল তারা। বিএনপির আমলে দেশ দুর্নীতিতে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এ বিষয়গুলো জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।