• শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা

খুনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হিমশিম খায় পুলিশও

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সহপাঠিদের ছুরিকাঘাতে রাইসুল হক তাহসিন (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হওয়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে শুরু দফায় দফায় এই সংঘর্ষ রাত ৯টা পর্যন্ত চলছিল। কয়েক ঘণ্টার সংঘর্ষে নবীগঞ্জ শহর পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

সংঘর্ষে শহরের একাধিক বিপনীসহ অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের চৌদ্দহাজারী মার্কেটের সামনে তাহসিনকে ছুরিকাঘাত করে সহপাঠিরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। বুধবার বিকেলে মরদেহ নবীগঞ্জে আনা হয়। সন্ধ্যায় জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সন্ধ্যায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে কুশি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদ ও পৌর কাউন্সিলর নানু মিয়ার লোকজনের মাঝে সংঘর্ষ হয়। পরে এ সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরও পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হয়।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এরপরও দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ। পরে রাত ৯টায় দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ টিয়াশেল নিক্ষেপ করে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী জানান, আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, নিহত রাইসুল হক তাহসিন (১৯) নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে বানিয়াচং উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামের রাজন মিয়ার ছেলে। নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের চৌদ্দহাজারী মার্কেটের সামনে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাইসুলের উপর হামলা চালায় তারই সহপাঠি মান্নাসহ ৭-৮ জন। এক পর্যায়ে তাহসিনের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।