• রোববার ১৬ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ১ ১৪৩১

  • || ০৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার নির্দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কাছে ঋণ চেয়েছি গ্লোবাল ফান্ড, স্টপ টিবি পার্টনারশিপ শেখ হাসিনাকে বিশ্বনেতৃবৃন্দের জোটে চায় শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতে সকল খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে হবে শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেককে আরো সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জিসিএ লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীকে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প শোনালেন সুবিধাভাগীরা

টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব: ডাকাতদের হাতেই খুন ডাকাত সদস্য আজাদ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৪  

বড় ভাই শাজাহানের বাসা থেকে বেরিয়ে ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন আজাহার ওরফে আজাদ (৩৩)। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পুলিশকে জানায় তার পরিবার। এরপর খবর আসে আমিনবাজার হিজলা তুরাগ নদীর পূর্বপাশে একটি লাশ ভাসছে।

২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর উদ্ধার করা মরদেহ আজাদের বলে শনাক্তের পর মো. শাজাহান (৩৫) বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পিবিআই জানায়, ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডাকাত দলের সদস্যের হাতেই খুন হন আজাদ। এ ঘটনায় জড়িতরা হলেন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন ওরফে টেক্কা (৪৯) ও তার অন্য দুই সহযোগী রুহুল আমিন লেদু (৪৩) ও সামিম হোসেন (৩৩)।

একই দলেন সক্রিয় সদস্য ছিলেন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কাচির আঘাতে নির্মমভাবে খুন করা হয়। পরে তার মরদেহ ফেলা হয় তুরাগ নদীতে। ডাকাত সর্দার মজিবর আকন ওরফে টেক্কা ও সহযোগী সামিম হোসেনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছে পিবিআই ঢাকা জেলা।

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডি পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা।

তিনি বলেন, আজাদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানায় মামলা হয়। এরপর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পিবিআই ঢাকা জেলার একটি চৌকস দল অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ছয় বছর আগের এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে। এ ঘটনায় জড়িত মজিবর আকন ওরফে টেক্কাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পূবাইল থানার মাজুখান বাগেরটেক এলাকায় তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী সামিম হোসেনকে ডিএমপির শাহআলী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজনইকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতে জবানবন্দি এবং তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা সাভার এবং আশুলিয়া থানা এলাকার তুরাগ নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করে আসছিলেন। মামলার ভুক্তভোগী নিহত আজাদ নিজেও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ঘটনার দিন (১৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টার পর সবাই আজাদসহ ডাকাতির উদ্দেশ্যে ট্রলারযোগে তুরাগ নদীর গাবতলী ঘাট এলাকা থেকে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।

তিনি জানান, কিছুদূর যাওয়ার পরে আজাদের সঙ্গে ডাকাত সর্দার মজিবর আকন ওরফে টেক্কা (৪৯) ও রুহুল আমিন ওরফে লেদুর আগের ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে লেদু ধারালো বড় কাঁচি দিয়ে পেছন থেকে আজাদের মাথায় পরপর তিনটি কোপ দেয়। পরে মজিবরও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর মরদেহ তুরাগ নদীতে ফেলে দিয়ে সবাই পালিয়ে যায়।

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার মজিবর আকন ওরফে টেক্কার’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত নয়টি মামলা ও রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, রুহুল আমিন একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। গ্রেফতার সামিম হোসেনের বিরুদ্ধে এক ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ডাকাত সর্দার মজিবরের আপন ভাই আনোয়ার হোসেন শামীমও তাদের ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধেও তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডাকাত সর্দার মজিবর ও শামীম একেবারেই গরীব ঘরের সন্তান ছিল। তাদের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। কিন্তু বর্তমানে তারা ডাকাতি ও চাঁদাবাজির টাকায় গড়ে তুলছেন তাদের সাম্রাজ্য। ডাকাতির টাকায় বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিশাল মাছের খামার। ডুপ্লেক্স বাড়ির নিমার্ণ শুরু করেছেন।

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ২০১৭ সালে ২য় বিয়ে করেন ডাকাত সর্দার মজিবর। ঢাকায় অপরাধ করে গাজীপুরে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে আত্মগোপনে থাকতেন তিনি। তুরাগ নদীর সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর অংশে বিভিন্ন মালবাহী ট্রলার, বালুবাহী ভলগেট ও অন্যান্য নৌ-যানে দীর্ঘদিন ধরেই ডাকাতি ও চাঁবাবাজি করে আসছিলেন তারা।

কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই রাতের বেলা তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবলসহ ঐসব ট্রলারে ডাকাতি করতেন। ট্রলারের লোকজনকে মারধর করে তাদের কাছে থাকা টাকা পয়সা ও ট্রলারের মূল্যবান জিনিসপত্র ডাকাতি করে নিয়ে আসতেন।