• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

১৪ বছর ধরে ভুয়া অতিরিক্ত সচিব তিনি, দেখা করতেই লাগতো ১৫ হাজার

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২১  

মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে পারেননি আব্দুল কাদের। দশম শ্রেণিতে লেখাপড়ার ইতি টানেন। কিন্তু নিজেকে একজন অতিরিক্ত সচিব বলে পরিচয় দিতেন তিনি। নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে কোটি কোটি টাকা। ১৪ বছরের প্রতারণার অভিজ্ঞতায় কোটিপতি বনে গেছেন এ প্রতারক। 

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার। 

তিনি জানান, ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পাস করিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া কিংবা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নোয়াখালীর সুবর্নচরের আব্দুল কাদের।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‌আমরা কাদেরকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে অনেক তথ্যই পেয়েছি। মূলত দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেওয়া আবদুল কাদের চৌধুরীর বাবা ছিলেন মাঝি। কাদেরের প্রত্যেক উপার্জনই ছিল প্রতারণার মাধ্যমে।

তিনি আরো বলেন, ১৪ বছর ধরে আব্দুল কাদের প্রতারণার মাধ্যমে অঢেল সম্পত্তি বানিয়েছেন। গাড়িতে সচিবালয়ের স্টিকার ও কোটি টাকা দামি প্রাডো গাড়ি নিয়ে চলাচল করেন। তার চলাফেরায় সচিবালয়ে তাকে কেউ সন্দেহের নজরে দেখেননি। গুলশান ১ নম্বর সেকশনের জব্বার টাওয়ারে মাসিক ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় আলিশান অফিস রয়েছে আব্দুর কাদেরের। কারওয়ান বাজারেও তার আরেকটি বিলাসবহুল অফিস রয়েছে। গুলশানেও দামি ফ্ল্যাট রয়েছে তার।

গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান ১-এ জব্বার টাওয়ারে অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি গুলশান বিভাগ।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন শেষে এক ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আব্দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আমি একটি ফর্ম পূরণ করি। এরপর লোন নিতে প্রোফাইল মেকিং চার্জের নামে আরো ৫ লাখ টাকা চাইলে আমি দুই লাখ টাকা দিই। এরপর ২০ কোটি টাকা লোন পাইয়ে দিতে লোনের ১ শতাংশ টাকা অগ্রিম চান তিনি। কিন্তু আমি নানাভাবে বলে ১০ লাখ টাকা (০.৫ শতাংশ) দেই।

তিনি আরো বলেন, মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় আমার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা ছিল। সাপ্লাইয়ের সাব কন্ট্রাক্টে আমি একটা ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছিলাম। এজন্য আমার টাকার প্রয়োজন ছিল। কাদের মার্কেটিংয়ের লোক দিয়ে আমাকে তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যায়। সেখান থেকে নম্বর নিয়ে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমার টাকা পাওয়ার পর থেকে নানা অজুহাতে আমাকে ঘুরিয়েছেন তিনি। তার কাছে টাকা চাইলে বলতেন, করোনার কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে, সব কাগজপত্র তৈরি আছে, আবার কিছুদিন পরে দেবে।