• বুধবার ২৯ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

  • || ২০ জ্বিলকদ ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় এক অনন্য নাম : রাষ্ট্রপতি রাত ২টা পর্যন্ত নিজেই দুর্যোগ মনিটর করেছেন প্রধানমন্ত্রী রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবেন শেখ হাসিনা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার অগ্রযাত্রায় মার্কিন ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক ডকুমেন্টারি ‘কলকাতায় মুজিব’ অবলোকন ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল : ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের অভিযানে স্বামীকে হত্যা চেষ্টা মামলার দুই প্রেমিকসহ ও ৪ জন

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

বরগুনার রিফাত হত্যাকান্ড দেশজুড়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করলেও সেই একই পন্থায় বরিশালে প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্ত্রী। উপর্যুপুরি কুপিয়ে জখমের পরও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় স্বামী সৌরভ, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এদিকে সৌরভের পিতার সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা ঘটনার রহস্য উদঘাটন সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়েছে। যারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

আহত সৌরভ বেপারী গৌরনদী পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের কবির বেপারীর ছেলে। ঘটনার সাত দিনের মধ্যে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ভিকটিমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার মুসকান, তার প্রেমিক  আবু সাইদ সিয়াম (২০) এবং বন্ধু রায়হান ও জিহাদ হাসান রাজনকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে সিয়ামের আদি বাড়ি গৌরনদী ও রাজনের আদি বাড়ি জামালপুরে হলেও তারা গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করতো।

বুধবার বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে গৌরনদী মডেল থানাধীন কালনা এলাকায় রাস্তার ওপর সৌরভ বেপারী নামে এক যুবককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে পালিয়ে যায়। যাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্তের শুরুতেই বিভিন্ন তথ্য ও সন্দেহজনক আচরণ পরিলক্ষিত হওয়ায় ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ভিকটিমের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার ওরফে মুসকানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।  প্রথমে মুসকান এলোমেলো তথ্য প্রদান করলেও পরবর্তীতে সে ঘটনার বিবরণ স্বেচ্ছায় প্রদান করেন।

ওই সময় মুসকান জানায়, ভিকটিম সৌরভ বেপারীর সাথে সাড়ে তিনমাস পূর্বে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় মুসকানের। বিয়ের সময় সৌরভ বলেছিলো সে সরকারি চাকুরি করে এবং মুসকানকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ দিবেন।  তবে বিয়ের পর মুসকান জানতে পারে সৌরভ সরকারি চাকুরি নয় ঢাকায় প্রাইভেট ব্যাংকের গাড়ি চালক। অপরদিকে বিয়ের পর মুসকানের পূর্বের বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্কের বিষয় ও সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌরভের মনোমালিন্য দেখা দেয়।  যা নিয়ে মুসকান তার স্বামী সৌরভের ওপর ক্ষুদ্ধ হয় এবং বিয়ের পূর্বের সম্পর্কিত প্রেমিক আবু সিয়াম ও তার বন্ধু রাজনের সহযোগীতায় হত্যার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ সুপার বলেন, ২৪ জানুয়ারি ছুটিতে সৌরভ ঢাকা থেকে গৌরনদীতে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরের দিন দুপুরের খাবার গ্রহনের পর সৌরভকে ভিটামিন ওষুধ বলে দুটি চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায় মুসকান এবং বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে কেনাকাটার জন্য সৌরভের সাথে মুসকান গৌরনদী উপজেলা সদরে যায়। সৌরভের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মুসকান একটি পার্লারের ভেতরে যায় এবং কৌশলে মোবাইল ফোনে পুরতান প্রেমিক সিয়ামকে খবর দেয়। পার্লারের কাজ ও কেনাকাটা শেষে ঘন্টাখানেক পরে সৌরভ অসুস্থবোধ করলে মুসকান তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়া কথা বলে অটোরিক্সা থেকে মুসকান তার স্বামী সৌরভকে নিয়ে নেমে যায়।

পরবর্তীতে গৌরনদীর কালনা এলাকার শামসুল হকের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় সৌরভ বেপারীকে স্ত্রী মুসকানের প্রেমিক সিয়াম ও রাজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। এতে সৌরভের গলার উপরের অংশে, ঘাড়ের নিচের অংশে, গালে, কানে সহ দুই হাতে রক্তাক্ত জখম হয়।

আর হামলার এসময় স্ত্রী মুসকান স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে নীরবে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে। তবে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত সৌরভের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌরভ বেপারীর বাবা গৌরনদী মডেল থানায় যে মামলা দায়ের করেন সেই মামলায় মুসকানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২৮ জানুয়ারি আদালতে সোপর্দ করা হয়। তখন সে ঘটনার বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

যার প্রেক্ষিতে গৌরনদী থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ৩১ জানুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু সাইদ সিয়াম (২০) ও জিহাদ হাসান রাজনকে (১৭) গ্রেপ্তার করে।  তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি ও ছোরা ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশের ঝোপ ঝারের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়।

সৌরভের বাবা কবির বেপারী বলেন, আমি প্রথম থেকেই সৌরভের স্ত্রীকে সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দেয়নি। কেননা বিষয়টি যদি মুসকান বুঝতে পারতো তাহলে সে পালিয়ে যেতো। পুলিশ যেভাবে যা বলেছে সেভাবে তা করেছি। আমি আমার ছেলেকে হত্যা চেষ্টার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুসকান ও রায়হানকে এক সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সিয়াম, রাজন ও রায়হান কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িত।