• বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১১ ১৪৩১

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা

এস আলমের বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোদমে উৎপাদনে যাবে জুনে

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

চট্টগ্রাম বাঁশখালীর গণ্ডামারায় এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট আগামী জুনে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়ার কথা।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডের দুটি ইউনিট আগামী জুনের মধ্যে পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে।

বাঁশখালীতে অবস্থিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কোম্পানির পরিচালক আবদুস সামাদ লাভু। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ বলেন, “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, আগামী এপ্রিলে প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যাবার। আগামী মে মাসে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হবে।”

জুন নাগাদ ইউনিট দুটিতে পুরোদমে উৎপাদনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইউনিট দুটিতে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বেশ কয়েকটি বিভাগ মিলে এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সময় দেবেন, তখন উদ্বোধন করা হবে।”


সামাদ বলেন, “মার্চের মধ্যে প্রকল্পের ব্রেক ওয়াটারের কাজ শেষ হবে এবং কয়লার প্রথম চালান আসবে। কয়লার চালান আসবে ইন্দোনেশিয়া থেকে। প্রথমে ২০ হাজার টন এবং পরবর্তীতে আরও দুই লাখ টন কয়লা আসবে।

এজন্য ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকেও রেখেছেন তারা।

আন্তর্জাতিক দামেই কয়লা কেনা হচ্ছে উল্লেখ করে সামাদ বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দাম কমবে, বাড়লে বাড়তি দরে নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৯ টাকার মধ্যে দেওয়ার আশা করছি।”


আর্ন্তজাতিক বাজারে জ্বালানির দাম সহনশীল হলে দেশে বিদ্যুতের অভাব হবে না মন্তব্য করে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, “লোডশেডিং হচ্ছে, হয়ে যাবে- এসব কিছু ধারণাপ্রসূত। আমরা আজকে এখানে এসেছি, ওরা যত তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ দিতে পারবে, তত আমাদের ঘাটতি কম হবে।


প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান। |
আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানির দাম সহনশীল হয়, বাংলাদেশে বিদ্যুতের অভাব থাকবে না। এলএনজি, কয়লার দাম সহনশীল হলে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না। আমাদের ২৬ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি আছে, লাগবে ১৬ হাজার।”

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “এটা যদি শুধু বাংলাদেশের হতো তাহলে বলতাম। সারা পৃথিবীতে এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। শুধু জ্বালানি তেল না, খাদ্য শস্য, ফার্টিলাইজার, ডলারের দাম বেড়েছে। জিওপলিটিকসের কারণে আমাদের মতো দেশ খেসারত দিচ্ছে।


এটার একটা সীমা আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে যেসব জ্বালানি আমরা আমদানি করি তা আমাদের হাতে নেই। সেজন্য আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম ধাপে ধাপে বাড়াচ্ছি, যাতে আমাদের ভর্তুকি দেওয়া না লাগে।”


প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় নির্মাণাধীন এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডের ৭০ শতাংশ মালিকানা দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের।বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানা চীনের সেপকো থ্রি’র।

২০১৬ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। সুপার ক্রিটিকাল প্রযুক্তির হওয়ায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটি পরিবেশ দূষণ করবে না বলে কোম্পানিটি দাবি করছে।

২০১৬ সালের এপ্রিলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জায়গা অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছিল। ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সঙ্গে আরেক সংঘর্ষে আরও পাঁচজন নিহত হন।