• শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের আহ্বান সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর ২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: শেখ হাসিনা হঠাৎ টাকার মালিক হওয়ারা মনে করে ইংরেজিতে কথা বললেই স্মার্টনেস ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকার পেয়েছে অশিক্ষার অন্ধকারে কেউ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী একুশ মাথা নত না করতে শেখায়: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ পদ্মা সেতুতে, কাজ শেষ ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৩  

পদ্মা সেতুতে দেশের প্রথম পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রেললিংক’-এর প্রকল্প পরিদর্শন প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র রায় জানান, এ ধরনের রেলপথ নির্মাণে খরচ বেশি হলেও এতে ট্রেন চলে দ্রুতগতিতে এবং ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। রক্ষণাবেক্ষণেও কোনো ব্যয় নেই।

সেতুর দুই প্রান্তের ভায়াডাক্টসহ এ রেলপথের দৈর্ঘ্য মোট ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, প্রকল্পটির অধীনে পদ্মা সেতুর অংশসহ ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনটি ভাগে এ নির্মাণকাজ চলছে।

এগুলো হলো ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর। মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা অংশে রয়েছে পদ্মা সেতু।

প্রকৌশলী সঞ্জয় চন্দ্র আরও জানান, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ। এখন সেতুর মাঝ বরাবরে ৫০০ মিটার রেললাইন নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, সেতু থেকে জাজিরার পদ্মা স্টেশন পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ৪ কিলোমিটার ও সেতু থেকে মাওয়া স্টেশন পর্যন্ত ৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার রেলপথ হচ্ছে পাথরবিহীন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালানোর আশা করছেন বলে সঞ্জয় জানান।

সঞ্জয় চন্দ্র রায়ের ভাষ্য, “বাংলাদেশে প্রথম নতুন প্রযুক্তির পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে। এ ধরনের রেলপথে ভ্রমণ হয় আরামদায়ক। সেতুতে যেন কোনো ঝাঁকুনি (জার্কিং) না হয়, তার জন্য পাথরবিহীন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রেললিংকের এ প্রকল্পের পাথরবিহীন রেলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জহিরুল হক বলেন, সেতুর স্প্যানের ওপর লোহার খাঁচা বানানো হয়েছে। তার ওপর রেলট্র্যাক স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি রেলট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার। তাতে ৪২টি স্লিপার রয়েছে। রেলট্র্যাক ও স্লিপার কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করে আটকে দেওয়া হয়েছে।

জহিরুল হক আরও বলেন, “এখনও বাংলাদেশে পাথরবিহীন রেলপথ নেই। এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে নির্মাণ করার সময় ব্যয় বেশি হলেও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ব্যয় নেই। এ রেল লাইনে কোনো ঝাঁকুনি হয় না। পদ্মা সেতুর জন্য ঝাঁকুনিবিহীন রেললাইন প্রয়োজন। তাই করা হয়েছে।”

এ রেলপথে দ্রুতগতির ট্রেন চালানো যাবে জানিয়ে এ প্রকৌশলী বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পাথরবিহীন রেলপথ দিয়ে ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারে। পদ্মা সেতুতে এর গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ১৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার পাথরবিহীন রেলপথের মধ্যে সেতুতে ৫০০ মিটারের কাজ বাকি আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা হবে।”
মার্চের মধ্যে সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানোর আশা করছেন তিনি।