• বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ১৬ ১৪৩০

  • || ১৮ শা'বান ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও নজরদারি চাই রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে পুলিশকে জনগণের বন্ধু হয়ে নিঃস্বার্থ সেবা দেয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতি বিশ্বের সম্ভাব্য সকল স্থানে রপ্তানি বাজার ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি গভীর সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার পুলিশ জনগণের বন্ধু, সে কথা মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, পুলিশকেও সেভাবে আধুনিক হতে হবে পুলিশ সপ্তাহ শুরু, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে

জুনে স্পট মার্কেট থেকে কেনা হবে সর্বোচ্চ এলএনজি

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৩  

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্যাসের উৎপাদন বা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না সরকার। ফলে অপ্রতুল জোগান নিয়ে ধীরগতিতে চলছে শিল্পকারখানা, সক্ষমতার অর্ধেক চলছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে জোগান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে পর্যাপ্ত এলএলজি আমদানিও করা যাচ্ছে না। তবে এই মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি মার্চ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়াবে সরকার। আগামী জুনে স্পট মার্কেট থেকে সর্বোচ্চ এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জ¦ালানির চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ। এ সময় গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া এ সময়ে কৃষির সেচকাল এবং রমজান মাস হয়ে থাকে। ফলে এ সময়কে ঘিরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ নজর দেয় সরকার। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হলে গ্যাসের জোগান বাড়াতে হয়। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন প্রতিনিয়ত কমতে থাকায় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানিই এখন সরকারের কাছে প্রধান ভরসা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর গ্যাসের উৎপাদন ও আমদানি মিলে গড়ে প্রতিদিন ২৬শ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দেশে উৎপাদিত গ্যাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত এলএনজি এবং স্পট মার্কেট থেকে আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। পেট্রোবাংলার আমদানির পরিকল্পনা থেকে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে স্পট মার্কেট থেকে কোনো এলএনজি আমদানি হয়নি। জানুয়ারি জুড়ে গড়ে ২৬শ থেকে ২৭শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট স্পট মার্কেটের এলএনজি যুক্ত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেও প্রতিদিন গড়ে ২৬শ থেকে ২৭শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মার্চ থেকে এলএনজির সরবরাহ বেড়েছে। ২৩০০শ মিলিয়ন ঘনফুট দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে ৭৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করে গড়ে প্রতিদিন তিন হাজার ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। জুন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে কাজ করছে পেট্রোবাংলা। তবে জুনের পর ডিসেম্বর পর্যন্ত সেটা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।


পেট্রেবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল, মে, জুন মাসে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি কমবে। তবে এ সময় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বাড়বে। মার্চ-এপ্রিলে প্রতিদিন দুইশ মিলিয়ন স্পট মার্কেটের এলএনজি বেড়ে এলএনজি সরবরাহ বাড়বে ৭১০ থেকে ৭৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। মে মাসে প্রতিদিন স্পট মার্কেটের এলএনজি সরবরাহ হবে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট, জুন মাসে সর্বোচ্চ স্পট মার্কেটের এলএনজি বাড়বে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে পেট্রোবাংলার একজন জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা  বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জুনের পর থেকে এলএনজি আমদানি কমে যাবে। জুনে ৩৬৫ এমএমসিএফডি, জুলাইতে ৫৫৫, আগস্টে ৪৫৫, সেপ্টেম্বরে ৪৯০, অক্টোবরে ৪৯০, নভেম্বরে ৩৪৫ এবং ডিসেম্বরে ৩৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির করতে পারবে সরকার। তবে বিশ্ববাজারে স্পট এলএনজির দাম এবং আমাদের আর্থিক সঙ্গতির ওপর নির্ভর করবে আমদানি। ফেব্রুয়ারি থেকে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম কমছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এ বছর গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ১৬শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জোগান বিবেচনা করা হয়েছে। তবে পেট্রোবাংলার গ্যাস আমদানি ও সরবরাহের রোডম্যাপ থেকে দেখা যায়, সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ও সংস্থাটি ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে সাড়ে ১২শ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের জোগান দিতে পারবে না। সঙ্গত কারণেই সক্ষমতার পুরো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে না গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো। ফলে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ চাহিদা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।