• শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩১

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তার নির্দেশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কাছে ঋণ চেয়েছি গ্লোবাল ফান্ড, স্টপ টিবি পার্টনারশিপ শেখ হাসিনাকে বিশ্বনেতৃবৃন্দের জোটে চায় শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতে সকল খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত করতে হবে শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেককে আরো সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জিসিএ লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়নস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ প্রধানমন্ত্রীকে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প শোনালেন সুবিধাভাগীরা

শহরে অটিস্টিক শিশু জন্মের হার বেশি

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২৩  

আজ ২ এপ্রিল সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ১৬তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস।
অটিজম আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে ২ এপ্রিলকে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রূপান্তরের অভিযাত্রায় সবার জন্য নিউরোবান্ধব অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গঠন’।

চিকিৎসা শাস্ত্রের ভাষায় অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার স্নায়বিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতার প্রতিফলন। বিশ্বজুড়েই এটি একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশেও অটিজম আক্রান্ত বা অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অটিজম সোসাইটির পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ অটিজম আক্রান্ত। আমাদের দেশের সঠিক পরিসংখ্যান জানা না থাকলেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। তবে ধারণানুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখের মতো অটিজম আক্রান্ত মানুষ রয়েছে। প্রতি বছর এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো প্রায় দেড় হাজার শিশু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরো-ডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা) ২০১৩ সালে দেশে অটিস্টিক শিশুদের অবস্থা নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রথম একটি জরিপ চালায়। সেখানে প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৫টি শিশু অটিজম বহন করে বলে তথ্য উঠে আসে। ৪ বছর পর ২০১৭ সালে আরো একটি জরিপে দেখা যায়, ১০ হাজারে ১৭টি শিশু বিশেষ এ বৈশিষ্ট্যের।

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, গ্রামের তুলনায় শহরে অটিস্টিক শিশু জন্মের হার বেশি। গ্রামে প্রতি ১০ হাজারে ১৪ জন এবং শহর এলাকায় প্রতি ১০ হাজারে ২৫জন শিশু অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। মেয়েশিশুর চেয়ে ছেলেশিশুর মধ্যে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেশি। এছাড়া দেশে ১৬ থেকে ৩০ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে অটিজম বিস্তারের হার প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালটির শিশু নিউরোলজি বিভাগে দৈনিক দেড়শ থেকে ২শ অটিস্টিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসে। সেই হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি অটিজমে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে আসে। বিএসএমএমইউ ছাড়াও সারাদেশের ৩৪টি মেডিকেলে অটিজমে আক্রান্তদের চিকিৎসায় জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও প্রয়াসসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে কাজ করছে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালের শিশু নিউরোলজি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুণ্ডু বলেন, দেশে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রাক শৈশবকাল থেকে এই সমস্যাটি শুরু হয়, যা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। সাধারণত শিশুর জন্মের ১ বছর থেকে ৩ বছরের মধ্যে অটিজমের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং আচরণের ভিন্নতাই এই সমস্যার প্রধান বিষয়।

তিনি বলেন, অনুন্নত দেশের তুলনায় উন্নত দেশে অটিজম আক্রান্ত শিশুর হার অনেক বেশি। বাংলাদেশেও গ্রামের তুলনায় ঢাকা শহরে অটিজম আক্রান্ত শিশু অনেক বেশি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত পরিবার ও ছোট একক পরিবারের মধ্যে বেশি। আবার এ রোগটি মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে বেশি। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে এর অনুপাত ৪ : ১।

অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. রওনাক হাফিজ সেরকারি এক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি অটিস্টিক শিশু আলাদা। তাদের সমস্যাগুলোও আলাদা। অটিজম সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। অটিস্টিক শিশুদের জন্য ব্যবহারিক চিকিৎসা প্রয়োজন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা হয়ে থাকে। এ রোগগুলোর কিছু ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য একজন সাইকোলজিস্ট, একজন স্পিচ থেরাপিস্টের প্রয়োজন হয়। এ শিশুদের শিক্ষার জন্য এবং ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের একটি বিশেষ স্কুলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশে অটিজম আক্রান্তের তুলনায় স্কুলের সংখ্যা অনেক কম।

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৩ উদযাপনের অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যা থেকে দুই রাত বাংলাদেশ সচিবালয়সহ সব সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায়, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশনে নীল বাতি প্রজ্জ্বলিত হবে। নীল রংয়ের মাধ্যমে সমাজের কাছে এক অনন্য বার্তা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ব্যস্ততার মধ্যেও আলাদা করে অটিস্টিকদের চেনাতে ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই শান্তির প্রতীককেই বেছে নেয়া হয়েছে। এই প্রতীকী রংয়ের মাধ্যমে নানা রংয়ের ধাঁধার মধ্যেও প্রাণের ছোঁয়া দেয়ার একটি অনন্য প্রচেষ্টা।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ রবিবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অটিজম বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও সুরক্ষায় ভূমিকা রাখায় ৫ ক্যাটাগরিতে ১০ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সম্মাননা পাচ্ছেন যারা

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি ক্যাটাগরিতে এনডিডি ট্রাস্ট আয়োজিত শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশবকালের ওপর রচনা লিখন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী আবদুল্লাহ আল নাফি অন্তর, আরটিভির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ফাবলিহা আজিম ও ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডের জন্য ছবি আঁকা মো. তাইফ মোস্তফা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাচ্ছে তৃণমূল প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সংস্থা (টিপিপিএস), নওগাঁর আমবাটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় এবং আদিতমারি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এমন ক্যাটাগরিতে মো. জিয়াউল হক, ডা. মো. জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার সম্মাননা পাচ্ছেন। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল পিতামাতা ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাচ্ছেন নুসরাত শারমিন এবং ডা. নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি। কেয়ারগিভার ক্যাটাগরিতে মোছা. সোনিয়া আক্তার ও মনিকা মারিয়া রোজারিও সম্মাননা পাচ্ছেন।