• মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৩ ১৪৩১

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

শরীয়তপুর বার্তা
ব্রেকিং:
নতুন বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে : প্রধানমন্ত্রী আ.লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, আর বিএনপি আসে নিতে: প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোর অপরাধীদের মোকাবেলায় বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাজিলকে সরাসরি তৈরি পোশাক নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জুলাইয়ে ব্রাজিল সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী আদর্শ নাগরিক গড়তে প্রশংসনীয় কাজ করেছে স্কাউটস: প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় স্কাউট আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান

ভেদরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ ব্যাপক আবাদ

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৪  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা গত বছর পরীক্ষা মুলক আবাদের সফলতায়, এ বছর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০।  উপজেলা  বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠের পর মাঠ এখন সবুজ ধানের ক্ষেতের উপর নীল রঙ্গের সাইনবোর্ড বঙ্গবন্ধু -১০০ ধানের প্রর্দশনী প্লটই কৃষকে কথা বলছে।

গত বছর বোরো মৌশমে তুলনামূলক কম সময় এবং কম খরচে রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার গুণসম্পন্ন এ ধান আবাদ করে বেশি ফলন পাওয়ায় এ বছর বঙ্গবন্ধু ধান-১০০  এর আবাদ ব্যাপক ভাবে  বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের কৃষক উকিল ছৈয়াল বলেন,গত বছর আমি পরীক্ষামুলক ভাবে ১০ শতক জমিতে এ ধান আবাদ করে আল্লাহ রহমতে আশার চেয়েও বেশী ফলন পেয়েছি। তাই এ বছর লাভের আশায় ৬০ শতক জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০  চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আমার আবাদ খরচ অন্যান ধানের তুলনায় কম লেগেছে। আল্লাহর রহমতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার থলনে আশা রাখছি। 

২০ একর জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান আবাদকারী ছয়গাঁও ইউনিয়নের কৃষক রিপন মৃধা জানান, অন্যান্য ধানের তুলনায় এ ধানের ফলন ভালো। পাশাপাশি এ ধানের রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় উৎপাদন খরচও কম হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতি একর জমিতে এ ধানের ফলন হয় ৮৫ মন, যা অন্যান্য ধানের তুলনায় বেশি। কম সময়ে ভালো ফলন ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এ ধান আবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও। ইতোমধ্যেই আমার কাছে অনেকে বীজ চাইতে আসছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানবীন হাসান শুভ বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎকৃষ্ট জিংকসমৃদ্ধ এই বঙ্গবন্ধু ধান দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মাঠে পাঁচ বছর ফলন পরীক্ষার পর ২০১৭ সালে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহের গবেষণা মাঠে এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষকের মাঠে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর পর ২০২০ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি কর্তৃক স্থাপিত প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ডের মাঠ মূল্যায়ন দল কর্তৃক সুপারিশের পর জাত হিসেবে ছাড়করণের আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ নামে এটি অবমুক্ত করে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম   জানান, শীত সহিষ্ণু, রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রমণ রোধ করার ক্ষমতা থাকায় বেশি ফলনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু-১০০ ধানের উৎপাদন খরচও কম। তা ছাড়া এ ধানে উৎকৃষ্ট জিংকের পরিমাণ বেশি থাকায় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

তিনি বলে গত বছর আমরা প্রথমবার  পরীক্ষা মুলক ১৩ একর জমি আবাদে ভালো ফলন পাওয়ায় এ বছর বঙ্গবন্ধু ধানের বীজ ছড়িয়ে দিয়েছি  কৃষকদের মাঝে। এ বছর আমাদের উপজেলায় ১ হাজার ২শ ৮৮ হেক্টর জমিতে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান আবাদ করা হয়েছে। আর প্রর্দশনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে ৩শ ১১টি।দেশের অন্যান্য ধান আবাদ করতে সময় লাগে ১৫৫ থেকে ১৬০ দিন। সেখানে বঙ্গবন্ধু-১০০ ধান আবাদ করতে সময় লাগছে মাত্র ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন। তা ছাড়া অন্যান্য ধানের চেয়ে এর ফলনও ভালো।