• শুক্রবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৮

  • || ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

শরীয়তপুর বার্তা

৩ জনকে হত্যা মামলায় জাজিরায় এক মানবপাচারকারী আটক

শরীয়তপুর বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২০  

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ গ্রীসে গাড়ির ব্যাকডালার ভিতর আটকে রেখে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় মামলা হয়েছে। দুই মানব পাচারকারীকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে মামলাটি করেন গ্রীসে নিহত আসিফ হোসেন লিমনের মা ফাহিমা আক্তার।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার বল্লবদী গ্রামের আ: রশিদ ব্যাপারীর ছেলে মো. সাইদুর রহমান ব্যাপারীকে (৪৫)। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে পুলিশ সাইদুর রহমানকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। আর দ্বিতীয় আসামী ওই গ্রামের মৃত ধোনাব মাদবরের ছেলে কোব্বাছ মাদবর (৩৫)। কোব্বাছ বর্তমানে গ্রীসে রয়েছেন। গ্রীসের ওই ঘটনায় ফেনী জেলার দাগনভূইয়ার দুই বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

আর বাদী নিহত লিমনের মা ফাহিমা আক্তারের দাবি, দালাল সাইদুর রহমান ব্যাপারী প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে তার ছেলে লিমনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরে দালাল সাইদুর রহমান ও কোব্বাছ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার ছেলেকে বিভিন্ন কৌশলে বিমানে বৈধ উপায়ে গ্রীসে নেয়ার আশ্বাস দেয় এবং তার স্বামী তোফাজ্জল হাকিদার ষড়যন্ত্র বুঝতে না পেরে ছেলে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গ্রীসে পাঠাতে রাজি হয়। স্বামীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। প্রথমে তার স্বামী সাইদুর রহমানের কাছে নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরে শরীয়তপুর সোনালী ব্যাংকের মাদ্যমে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। এই কাজে সাইদুর রহমানের সহযোগী ছিলেন কোব্বাছসহ কয়েকজন।

নিহত লিমনের বাবা তোফাজ্জল হাকিদার বলেন, আমার ছেলের হত্যার সঙ্গে যারা জরিত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করি এবং তাদের ফাঁসি দেয়া হোক। এভাবে প্রতারণার স্বীকার হয়ে কারো মা-বাবার বুক  যেন খালি না হয়।

জাজিরা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) এমএ মজিদ বকুল বলেন, তুরস্ক থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে একটি গাড়ির ব্যাগডালার ভিতর নিহত লিমনসহ বাংলাদেশী তিনজনকে নির্যাতন করে গাদাগাদি করে ঢুকানো হয়। পরে স্বাস বন্ধ হয়ে তিনজনই মারা যায়। গ্রীসের আলেকজান্ডা পলি নামক স্থানের ফাঁকা সড়কের পাশে লাশগুলো ফেলে রেখে চলে যায় চালক। পরে গ্রীসে অবস্থিত দূতাবাসের কর্মকর্তারা তিনজন নিহতর বিষয়ে স্বজনদের জানান। পরে দূতাবাসের মাধ্যমে লাশ দেশে এনে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আসিফ হোসেন লিমনের মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে থানায় মামলা করেন।